ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভিসা বাতিলের ঝড়: কেন বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে দিচ্ছে

মুস্তাকিম
মুস্তাকিম

জুনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ০৩ ০০:২৬:০২

ভিসা বাতিলের ঝড়: কেন বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে দিচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশে কাজ করতে বা ঘুরতে যেতে আগ্রহীদের জন্য দুঃসংবাদ—দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার। ইউরোপ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা এশিয়ার পর্যটন গন্তব্যগুলোতেও এখন বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়া হয়ে পড়ছে কঠিন। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের ভাবমূর্তি, রেমিট্যান্স ও পর্যটন খাত বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হচ্ছে—ভুয়া নিয়োগপত্র, জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা। এসব অনিয়মের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা নীতিতে বাংলাদেশিদের জন্য কঠোরতা বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, ইতালি এখন প্রায় বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ—বারবার ভুয়া নথিপত্র জমা পড়ছে, যার ফলে ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ‘ভিসা দেওয়া না দেওয়া সংশ্লিষ্ট দেশের এখতিয়ার হলেও, জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া এখন বাংলাদেশিদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণ। একজনের অনিয়মের কারণে অনেক নিরীহ আবেদনকারীও বিপদে পড়ছেন।’ প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরও জানান, বিদেশে বসবাসরত কিছু বাংলাদেশির অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও ভিসা বাতিলের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ৩০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ভিসা প্রত্যাখ্যানের শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও মালয়েশিয়া—এই দেশগুলোতেও ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারত এখন কেবল মেডিকেল ও বিশেষ ভিসা দিচ্ছে, ফলে চিকিৎসা নিতেও অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। এমনকি যারা বহুবার ভ্রমণ করেছেন, তাদের আবেদনও বাতিল হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রও এখন কঠোর নীতিতে যাচ্ছে। সম্প্রতি এক ঘোষণায় তাদের দূতাবাস জানিয়েছে, কেউ ভুয়া কাগজপত্র জমা দিলে আজীবনের জন্য মার্কিন ভিসা নিষিদ্ধ করা হতে পারে, এমনকি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে, ওমান, মালয়েশিয়া ও আমিরাত ইতোমধ্যেই অদক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান ৯৫তম, যেখানে উত্তর কোরিয়া ও লিবিয়ার অবস্থান পর্যন্ত আমাদের ওপরে। পর্যটন খাতের সংগঠন বোটফ-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে বিদেশগামী পর্যটনের হার ৫০–৬০% কমে গেছে, আর করপোরেট ভ্রমণ কমেছে প্রায় ৭০%।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। দরকার ভিসা অনিয়মে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ, নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচার বাড়ানো। না হলে আরও বেশি দেশ বাংলাদেশিদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেবে, যার প্রভাব সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে পড়বে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত