ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চরম দু:সংবাদ : হঠাৎ বন্ধ হলো ভিসা

মুস্তাকিম
মুস্তাকিম

জুনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ জুলাই ৩১ ১৬:৪১:১৯

চরম দু:সংবাদ : হঠাৎ বন্ধ হলো ভিসা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ওমানের মতো কঠোর আইনপরিপালনকারী দেশে প্রবাসীদের কাছে একটাই শর্ত—নিয়ম মেনে চলা। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বাংলাদেশি প্রবাসীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং গোপন সংগঠনের মাধ্যমে অপতৎপরতা দেশটির প্রশাসনের নজরে এলে ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ওমান সরকার। ফলে সাময়িকভাবে বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের ভিসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

অপরাধ করেই দোষ চাপান অন্যের ঘাড়ে!গত এক দশকে ৮ লাখের বেশি বাংলাদেশি ওমানে কাজ করেছেন। তবে এদের মধ্যে মাত্র ১৫-২০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অপরাধে জড়িত ছিলেন। দেশে ফিরে এই প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের কাছে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি।

গোপন সংগঠন এবং আইন ভঙ্গের অভিযোগওমানে রাজনীতি, সভা-সমাবেশ এবং যেকোনো সংগঠন চালানো আইনত নিষিদ্ধ। অথচ কিছু বাংলাদেশি গোপনে ‘সংগঠনের’ ব্যানারে রাজনৈতিক তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই কারণে ওমান সরকার বাংলাদেশিদের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করতে শুরু করেছে।

কড়াকড়ি ভিসা নীতি ও ভবিষ্যতের হুমকিএইসব অনিয়মের কারণে বাংলাদেশিদের প্রতি ওমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। ভিসা ইস্যুতে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত: অপরাধীদের দেশে এনে শাস্তি দেওয়া জরুরিপ্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যারা অপরাধ করে বিদেশ থেকে ফেরত আসে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। তা না হলে বিদেশে থাকা সাধারণ প্রবাসীদের সম্মান ও দেশের মর্যাদা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু একটি দেশের সিদ্ধান্ত নয়, বরং পুরো জাতির আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। যারা অপরাধ করে ফেরত আসে, তারা শুধু নিজের ক্ষতি করে না, দেশের অর্থনীতি, ভাবমূর্তি, এমনকি ভবিষ্যত কর্মসংস্থানের পথকেও রুদ্ধ করে। তাই এখনই সময়—প্রবাসীদের সচেতনতা ও শুদ্ধ আচরণ নিশ্চিত করার।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত