ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিদেশে প্রবাসীর মৃত্যু হলে লাশ আনতে পরিবারের করণীয়—জেনেনিন বিস্তারিত গাইডলাইন

২০২৫ মে ২২ ২৩:১৮:০১

বিদেশে প্রবাসীর মৃত্যু হলে লাশ আনতে পরিবারের করণীয়—জেনেনিন বিস্তারিত গাইডলাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রবাসে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি নানা দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিদিন কোনো না কোনো দেশের বিমানবন্দরে ফিরছেন এসব প্রবাসীরা—তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে। একজন প্রবাসীর মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে আনতে পরিবারকে পাড়ি দিতে হয় এক জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এ নিয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন স্বজনরা। নিচে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো প্রবাসে মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে আনার জন্য পরিবারের করণীয়—

১. দূতাবাসকে অবহিত করা:প্রথমেই প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে দূতাবাসের কনস্যুলার বা শ্রম শাখায় সরাসরি যোগাযোগ করা উচিত।

২. স্থানীয় কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট সংগ্রহ:মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে স্থানীয় পুলিশ, হাসপাতাল বা প্রশাসনের কাছ থেকে মৃত্যুসনদ, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট (যদি প্রযোজ্য), এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হয়।

৩. মরদেহ পরিবহনের অনুমোদন:প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC)’ ইস্যু করে। এরপর স্থানীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ থেকে মরদেহ দেশে পাঠানোর অনুমতি নিতে হয়।

৪. কফিন ও ফ্রিজিং বক্স প্রস্তুত:আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী মরদেহকে আগে কাফনে মোড়ানো হয়, পরে কফিনে রাখা হয় এবং বিশেষ ফ্রিজিং বক্সে বিমানভ্রমণের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।

৫. খরচ বহন ও সহায়তা:অনেক সময় এই খরচ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বহন করে, না হলে দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বা জীবনবিমা থেকে সহায়তা পাওয়া যায়। তহবিল না থাকলে পরিবারকে নিজ খরচে লাশ আনতে হয়।

৬. দেশে পৌঁছানো ও গ্রহণ:সবশেষে মরদেহ দেশে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করেন। এই সময় প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকেও কিছু আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে পুরো এই প্রক্রিয়া মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে পরিবারকে বিপর্যস্ত করে তোলে। তাই প্রবাসীদের সচেতন থাকা, জীবনবিমা করা এবং নিয়মিত দূতাবাসে তথ্য আপডেট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত