ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

রেলসেবা পাবে আরও ১৬ জেলা? নতুন রেলপথ নির্মাণে বড় পরিকল্পনা সরকারের

২০২৬ জুলাই ২৬ ১১:৫৭:৩৪

রেলসেবা পাবে আরও ১৬ জেলা? নতুন রেলপথ নির্মাণে বড় পরিকল্পনা সরকারের

দেশের প্রতিটি জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। নতুন রেললাইন নির্মাণ, বিদ্যমান রেলপথের সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দেশের সব জেলায় রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশের ৬৪টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৪৮টি জেলা জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এখনও ১৬টি জেলা সরাসরি রেলসেবা থেকে বঞ্চিত। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১০টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে আরও ছয়টি জেলায় রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রথম পর্যায়ে যেসব জেলা অগ্রাধিকার পেয়েছে সেগুলো হলো— শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর এবং লক্ষ্মীপুর। এসব জেলার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাথমিক সমীক্ষা এবং প্রকল্প প্রস্তুতির কাজ চলছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ভোলা, নেত্রকোনা এবং মানিকগঞ্জকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, সাতক্ষীরায় রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে। যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া মধুখালী থেকে মাগুরা পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ, নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ এবং শেরপুর হয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

বরিশাল বিভাগেও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভাঙ্গা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন জেলাগুলোতে কবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়। কারণ সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প অনুমোদন, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণ এবং নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, রেলবঞ্চিত জেলাগুলোকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে। বর্তমানে বেশির ভাগ প্রকল্পই সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে। এসব সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

রেলওয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন চার শতাধিক যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী রেলপথ ব্যবহার করেন এবং প্রায় এক কোটি টন পণ্য পরিবহন করা হয়। নতুন জেলাগুলো রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে যাত্রীসেবা ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৬-২০৪৫ মেয়াদের রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনায় সময়সীমা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রেললাইন নির্মাণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ, কোচ এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুতের বিষয়টিও সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, দেশের যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ৬৪টি জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ