ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

২০২৬ সালের ওয়ার্ক পারমিটে বড় পরিবর্তন, প্রবাসীদের জন্য সুখবর নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ?

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৬ জুলাই ২৭ ০০:২২:০৪

২০২৬ সালের ওয়ার্ক পারমিটে বড় পরিবর্তন, প্রবাসীদের জন্য সুখবর নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ?

সিঙ্গাপুর সরকার ২০২৬ সাল থেকে বিদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় (Ministry of Manpower - MOM) জানিয়েছে, নতুন এই নীতির মাধ্যমে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে কিছু ক্ষেত্রে নতুন কড়াকড়িও আরোপ করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশিসহ সিঙ্গাপুরে কর্মরত লাখো প্রবাসীর জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক পারমিট মূলত নির্মাণ, উৎপাদন, শিপইয়ার্ড, সার্ভিস এবং প্রসেস শিল্পে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য। এটি S Pass বা Employment Pass থেকে আলাদা একটি ক্যাটাগরি, যেখানে নির্দিষ্ট কোটা, লেভি এবং বয়সসীমা অনুসরণ করতে হয়।

নতুন নীতির সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন এসেছে বিনোদন খাতে। আগামী ১ জুন ২০২৬ থেকে পারফরমিং আর্টিস্ট স্কিম-এর আওতায় আর নতুন কোনো ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে না। এতদিন বার, নাইট ক্লাব ও হোটেলে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি শিল্পী নিয়োগে এই স্কিম ব্যবহার করা হলেও নানা ধরনের অপব্যবহারের অভিযোগের পর এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, বেশিরভাগ খাতে চাকরির সর্বোচ্চ মেয়াদসীমা তুলে দেওয়া হচ্ছে। আগে খাত ও কর্মীর উৎসদেশ অনুযায়ী ১৪ থেকে ২৬ বছর পর্যন্ত কাজের সীমা নির্ধারিত ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত কোটা ও লেভির শর্ত পূরণ করলে এবং যোগ্যতা বজায় থাকলে কর্মীরা অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন করে সিঙ্গাপুরে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

বয়সসীমাতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে বিদেশি কর্মীদের সর্বোচ্চ কর্মক্ষম বয়স ৬৩ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন আবেদনকারীদের ৬১ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে কর্মরত অভিজ্ঞ বাংলাদেশি ও অন্যান্য প্রবাসী শ্রমিকরা আরও কয়েক বছর কাজ করার সুযোগ পাবেন।

তবে সব খাতের জন্য সুখবর নেই। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সার্ভিস খাতে কম দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে কোটা আরও সীমিত করা হবে এবং লেভির হারও বাড়ানো হবে। স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং কম দক্ষ বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতি বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য একদিকে যেমন দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে সার্ভিস খাতে কর্মরতদের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নতুন করে সিঙ্গাপুরে যেতে আগ্রহীদের চাকরির ধরন, দক্ষতা এবং নিয়োগকর্তার চাহিদা সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

সিঙ্গাপুর সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তারা একটি দক্ষ, টেকসই ও সুশৃঙ্খল বিদেশি শ্রমবাজার গড়ে তুলতে চায়। তাই প্রবাসী কর্মী এবং নিয়োগকর্তাদের নিয়মিত MOM-এর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন নিয়ম সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানা থাকে এবং কোনো ধরনের জটিলতায় পড়তে না হয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ব এর অন্যান্য সংবাদ

মেসির জন্য সুখবর

মেসির জন্য সুখবর

মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অল-স্টার ম্যাচকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে অল-স্টার ম্যাচে... বিস্তারিত