ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

স্কালোনি-পারদেসের ২৯ সেকেন্ডের যে মিটিংয়ে ঘুরে যায় ম্যাচ, ভাইরাল ভিডিও

২০২৬ জুলাই ১৩ ১৪:৪২:০৪

স্কালোনি-পারদেসের ২৯ সেকেন্ডের যে মিটিংয়ে ঘুরে যায় ম্যাচ, ভাইরাল ভিডিও

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে এই জয়ের পেছনে শুধু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই নয়, মাঠের ধারে কোচ লিওনেল স্কালোনি ও মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের মাত্র ২৯ সেকেন্ডের একটি কৌশলগত আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে হাইড্রেশন ব্রেক চলাকালে স্কালোনি ও পারেদেসের মধ্যে হওয়া সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাবটাইটেলসহ প্রকাশিত সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাচের পরিস্থিতি নিয়ে দুজন খুব মনোযোগ দিয়ে আলোচনা করছেন এবং প্রতিপক্ষের কৌশল মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন।

আলোচনায় পারেদেস কোচকে জানান, সুইজারল্যান্ডের এক সেন্টার-ব্যাক নিয়মিত ডান দিক দিয়ে ওপরে উঠে আক্রমণে অংশ নিচ্ছিলেন। তাকে থামাতে গিয়ে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে বড় ফাঁক তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার প্রায়ই নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছিলেন, যা আর্জেন্টিনার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।

স্কালোনি প্রথমে পারেদেসকে নিজের নির্ধারিত দায়িত্বেই মনোযোগী থাকতে বলেন। কিন্তু পারেদেস ব্যাখ্যা করেন, মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড় বারবার ফাঁকা জায়গা পাচ্ছেন এবং সেখান থেকেই সুইসরা আক্রমণ গড়ে তুলতে পারছে। তার পর্যবেক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শোনেন আর্জেন্টাইন কোচ।

কথোপকথনের শেষ দিকে স্কালোনি জানতে চান, রক্ষণভাগে অতিরিক্ত একজন সেন্টার-ব্যাক প্রয়োজন কি না। পারেদেস সম্মতি দিলে কোচ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন এবং নিকোলাস ওতামেন্দিকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মাঝমাঠের ভারসাম্যও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে।

ম্যাচের পরিস্থিতিও তখন দ্রুত বদলাচ্ছিল। ব্রেল এমবোলো লাল কার্ড দেখার পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। এরপর তারা অনেক নিচে নেমে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে শুরু করে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে স্কালোনিও নিজের কৌশল নতুনভাবে সাজান।

অতিরিক্ত সময়ে নিকোলাস ওতামেন্দি মাঠে নামার পর আর্জেন্টিনার রক্ষণ আরও স্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এরপর ১১২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজ আরও একটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।

এই ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক ফুটবলে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং ম্যাচ চলাকালীন কৌশলগত যোগাযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পারেদেসের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে স্কালোনির তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি এখন ফুটবল বিশ্লেষকদের কাছেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে এই ২৯ সেকেন্ডের আলোচনা একাই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেছে— এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ফুটবলে জয়-পরাজয় নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের ওপর। তবুও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক কৌশলগত সমন্বয় আর্জেন্টিনাকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে বলেই অনেকের মত।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত