ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, শেষ হলো সুইজারল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচ

২০২৬ জুলাই ১২ ০৯:৪৯:১৮

অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, শেষ হলো সুইজারল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয় নিশ্চিত করে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। তার ফলও আসে দ্রুত। ১০ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে এই লিড ধরে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় সুইজারল্যান্ড। ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান এবং কোয়ার্টার-ফাইনালের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭২ মিনিটে। সুইজারল্যান্ডের ব্রেল এমবোলো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বাকি সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় ইউরোপের প্রতিনিধিদের। সংখ্যায় পিছিয়ে পড়লেও সুইসরা দীর্ঘ সময় আর্জেন্টিনার আক্রমণ সামলে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

অতিরিক্ত সময়ে অবশ্য আর ভুল করেনি আর্জেন্টিনা। ১১২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেস দারুণ এক ফিনিশে দলকে আবারও এগিয়ে দেন। এরপর সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার জন্য ঝুঁকি নিয়ে আক্রমণে উঠলে ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ আরেকটি গোল করে জয়ের ব্যবধান ৩-১ করেন। এই গোলের পরই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালের টিকিট।

ম্যাচের পরিসংখ্যানেও আর্জেন্টিনার আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। তারা পুরো ম্যাচে ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড ১৩টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বলের দখলে ৫৯ শতাংশ নিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে আর্জেন্টিনা, যেখানে সুইজারল্যান্ডের দখলে ছিল ৪১ শতাংশ বল।

পাসিংয়েও এগিয়ে ছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। আর্জেন্টিনা ৬১৬টি পাস সম্পন্ন করে ৮৮ শতাংশ সফলতা অর্জন করে। সুইজারল্যান্ড ৪৫৩টি পাস দিয়ে ৮৪ শতাংশ সফলতা পায়। কর্নারের সংখ্যায়ও বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তারা ৮টি কর্নার আদায় করে, বিপরীতে সুইজারল্যান্ড পায় মাত্র ২টি।

ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১৪টি ফাউল করে তিনটি হলুদ কার্ড দেখেছে। সুইজারল্যান্ড ১৮টি ফাউল করার পাশাপাশি একটি হলুদ ও একটি লাল কার্ড পায়। বিশেষ করে এমবোলোর লাল কার্ড ম্যাচের শেষ ভাগে সুইসদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায় এবং অতিরিক্ত সময়ে সেই সংখ্যাগত ঘাটতির সুযোগ কাজে লাগিয়েই জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল আর্জেন্টিনা। কঠিন লড়াইয়ের পর দলটির দৃঢ় মানসিকতা এবং অতিরিক্ত সময়ের কার্যকর আক্রমণই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ

অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, শেষ হলো সুইজারল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচ

অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, শেষ হলো সুইজারল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০... বিস্তারিত