ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে কী করেছিল আর্জেন্টিনা

২০২৬ জুলাই ১৩ ১৩:০০:১৪

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে কী করেছিল আর্জেন্টিনা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা আর্জেন্টিনার সামনে এবার টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। আর ইতিহাস বলছে, সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান আলবিসেলেস্তেদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।

কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে শেষ চার নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। এখন দুই দলের লক্ষ্য একটাই—ফাইনালের টিকিট।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শেষ দুই ম্যাচ সুখকর ছিল না। সর্বশেষ ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড। তারও আগে ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টির একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ইংলিশরা। অর্থাৎ, দুই দলের সর্বশেষ দুই দেখাতেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত পাঁচবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে এই দুই পরাশক্তি। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের হিসাবে ইংল্যান্ড তিনটি ম্যাচ জিতেছে, আর আর্জেন্টিনা জিতেছে একটি। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে জয় পাওয়ায় সেই ম্যাচটিও অনেক পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার সাফল্য হিসেবে ধরা হয়। ফলে সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপে দুই দলের দ্বৈরথ বরাবরই অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

তবে নকআউট পর্বের ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলে। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার-ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি। সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা এবং পরে বিশ্বকাপও জয় করে। এরপর ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোয় টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবারও নকআউটে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

আসন্ন সেমিফাইনালের আরেকটি বড় আকর্ষণ লিওনেল মেসি। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দুই শতাধিক ম্যাচ খেললেও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে এখনো কোনো ম্যাচ খেলেননি তিনি। তাই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চেই প্রথমবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিষয়টি ম্যাচটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ কেবল ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়; ইতিহাস, আবেগ এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এই লড়াইকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। তবে বর্তমান প্রজন্মের দুই দলের লক্ষ্য অতীত নয়, বরং বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা।

আগামী বুধবার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনাল শুধু দুটি দলের লড়াই নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি নতুন অধ্যায়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এগিয়ে ইংল্যান্ড, আর বিশ্বকাপের নকআউট স্মৃতিতে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত কোন দল ফাইনালের টিকিট কাটবে, সেটিই এখন কোটি ফুটবলপ্রেমীর অপেক্ষার বিষয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ