ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

এমবাপ্পের ৩ বছরের কারাদণ্ড ?

২০২৬ জুলাই ১২ ১০:১৮:০১

এমবাপ্পের ৩ বছরের কারাদণ্ড ?

ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের বিদায়ের পর বর্ণবাদী মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়া প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা এবার উল্টো এমবাপ্পের বিরুদ্ধেই মানহানি ও অপবাদের অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং মামলা হবে কি না, তা নির্ভর করছে ফ্রান্সে সিনেটরের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের ফলাফলের ওপর।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা এবং ফরাসি দৈনিক লে প্যারিসিয়েন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটর আমারিলার আইনজীবী গুইলার্মো দুয়ার্তে কাকাবেলোস বর্তমানে এমবাপ্পের প্রকাশ্য মন্তব্য প্যারাগুয়ের আইনে মানহানি ও অপবাদের আওতায় পড়ে কি না, তা নিয়ে আইনি বিশ্লেষণ করছেন। তার মতে, আদালত যদি অভিযোগ গ্রহণ করে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে প্যারাগুয়ের আইনে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনজীবী আরও জানান, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এখনই এমবাপ্পের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্বে। ওই ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় প্যারাগুয়ে। ম্যাচের পর সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা এমবাপ্পের জাতীয়তা, পরিচয় ও বংশপরিচয় নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং অনেকেই এসব মন্তব্যকে বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক বলে আখ্যায়িত করেন।

এরপর এমবাপ্পে প্রকাশ্যে সিনেটরকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন বলে দাবি করেন আমারিলার আইনজীবী। তার অভিযোগ, ফরাসি তারকা সিনেটরকে ‘নিজের পদমর্যাদার অযোগ্য এক জঘন্য নারী’ বলে মন্তব্য করেছেন। এই বক্তব্যকেই সম্ভাব্য মানহানি মামলার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এমবাপ্পের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ফ্রান্সে চলমান তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সিনেটরপক্ষ। আইনজীবীর ভাষ্য, যদি ফরাসি কর্তৃপক্ষ আমারিলার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে, তাহলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এমবাপ্পের বিরুদ্ধেও মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এদিকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে, সিনেটর আমারিলা তার বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে জাতিগত পরিচয়, জাতীয়তা, বর্ণ বা ধর্মের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে অপমান করেছেন কি না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানার বিধান রয়েছে।

বিতর্ক বাড়লেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি সেলেস্তে আমারিলা। তার দাবি, তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ করেছেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কোনো সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ নাগরিক ও প্যারাগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছেন।

আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে এমবাপ্পেকেও প্যারাগুয়ের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী গুইলার্মো দুয়ার্তে কাকাবেলোস।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেবল ক্রীড়াঙ্গন নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ প্রকাশ্যে এমবাপ্পের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্যের নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা স্পষ্ট করেছেন, সিনেটর আমারিলার বক্তব্য কোনোভাবেই প্যারাগুয়ে রাষ্ট্র বা দেশটির জনগণের অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

এদিকে সিনেটে আনুষ্ঠানিক তিরস্কারের পরও নতুন করে এমবাপ্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন আমারিলা। তার দাবি, বিশ্বকাপে জয়ের পর এমবাপ্পে অহংকারপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে করমর্দন করতেও অস্বীকৃতি জানান।

সব মিলিয়ে এমবাপ্পে ও সেলেস্তে আমারিলাকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। ফ্রান্সের তদন্ত এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের পরবর্তী অগ্রগতি এখন সবার নজরে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ