ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

১২ বছর পর বিশ্বকাপে আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড, শেষ ম্যাচে কে জিতেছিলো

২০২৬ জুলাই ১০ ১১:৪০:০৭

১২ বছর পর বিশ্বকাপে আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড, শেষ ম্যাচে কে জিতেছিলো

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে একটি বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড। দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে, যেখানে অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আনহেল ডি মারিয়ার গোলে জয় পেয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।

সাও পাওলোর সেই ম্যাচটি এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর নকআউট লড়াই হিসেবে স্মরণ করা হয়। পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনা আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করলেও সুইজারল্যান্ডের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ তাদের গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যখন সবাই টাইব্রেকারের অপেক্ষায়, তখন ১১৮তম মিনিটে লিওনেল মেসির অসাধারণ পাস থেকে ডি মারিয়া নিখুঁত শটে জয়ের গোল করেন। শেষ মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড চেষ্টা করলেও সমতা ফেরাতে পারেনি।

এই এক যুগে দুই দলের অনেক পরিবর্তন এসেছে। ২০১৪ সালের সেই আর্জেন্টিনা ছিল বিশ্বকাপ জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত একটি দল। বর্তমানে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামছে এবং আরও একটি শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি এখনও দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাকে এখনও বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রেখেছে।

চলতি বিশ্বকাপে মেসি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন নিয়মিত। শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখনও দলটি হাল ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, এই দল শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে বিশ্বাস করে।

অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডও এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের নতুন ইতিহাস গড়েছে। শেষ ষোলোর ম্যাচে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৭২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। শক্তিশালী রক্ষণ, সংগঠিত মিডফিল্ড এবং দলগত ফুটবলই সুইসদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কোচ মুরাত ইয়াকিন মনে করেন, আর্জেন্টিনা অবশ্যই ফেবারিট, তবে তাদের হারানো অসম্ভব নয়।

বিশেষ একটি দিক হলো, ২০১৪ সালের সেই ম্যাচের তিনজন ফুটবলার এখনও দুই দলে রয়েছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলছেন লিওনেল মেসি, আর সুইজারল্যান্ডের হয়ে রয়েছেন অধিনায়ক গ্রানিত জাকা এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ। জাকা ম্যাচের আগে মেসির প্রশংসা করে বলেন, মেসির বিপক্ষে খেলতে পারা যেকোনো ফুটবলারের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। তবে এবার তারা অতীতের ভুল শুধরে নতুন ইতিহাস গড়তে চান।

কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। একদিকে থাকবে মেসির নেতৃত্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল এবং চমক দেখানোর প্রবল ইচ্ছা। ফলে সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইটি হতে যাচ্ছে টানটান উত্তেজনায় ভরপুর একটি মহারণ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত