ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে কমিটির বৈঠক শেষ, কী সিদ্ধান্ত হলো

২০২৬ জুন ১৮ ১৭:১১:৩৯

পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে কমিটির বৈঠক শেষ, কী সিদ্ধান্ত হলো

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, বিচার বিভাগীয় পে-কমিশনের প্রস্তাব, সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৪ জুন এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নবম পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন, বিধিমালা সংশোধন এবং প্রজ্ঞাপন জারির মতো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফলে জুলাই থেকে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে পৌঁছাতে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে।

নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, চিকিৎসক, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীরা যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বা ইনসেনটিভ পাচ্ছেন, তা নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে আলাদা করে বিশেষ সুবিধা আর বহাল থাকবে না।

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন ব্যবস্থায় মূল বেতন বাড়লেও এই সুবিধা বাদ যাওয়ার কারণে কার্যকর বেতন বৃদ্ধি কিছুটা কম হবে। হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের প্রকৃত বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অর্থ বিভাগ বলছে, বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধার পরিবর্তে মূল বেতন বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অবসর-পরবর্তী আর্থিক সুবিধাও বৃদ্ধি পাবে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আরও লাভজনক হবে।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটির অর্থ যুক্ত করলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।

জনপ্রশাসন খাতেও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েকটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত রূপরেখা স্পষ্ট হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত