ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাকিস্তানকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ, ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

২০২৬ মে ২০ ১১:৫৫:২১

পাকিস্তানকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ, ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে আরও একটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ হলো। শক্তিশালী পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয়বার টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। সিলেট টেস্টে ৭৮ রানের দারুণ জয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতেও একই ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল পাকিস্তান। হাতে ছিল তিন উইকেট, ক্রিজে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। শুরুতে তাদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। দ্রুত রান তুলতে থাকায় ম্যাচে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তবে অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

দিনের প্রথম ঘণ্টায় রিজওয়ান ও সাজিদ ৫৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। কিন্তু এরপর স্লিপে ক্যাচ তুলে সাজিদ খান ফিরলে ভাঙে প্রতিরোধ। ২৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপরই শরিফুল ইসলামের বলে গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৯৪ রানে ফিরে যান মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার বিদায়ের পরই কার্যত পাকিস্তানের আশা শেষ হয়ে যায়।

শেষদিকে আর বড় কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি পাকিস্তান। খুররম শেহজাদকে আউট করে ইনিংসে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন তাইজুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত ৩৫৮ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান এবং ৭৮ রানের বড় জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

ম্যাচজুড়ে দারুণ বোলিং করেন তাইজুল ইসলাম। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে বারবার বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। অন্যদিকে গতি দিয়ে পাকিস্তানি ব্যাটারদের চাপে রাখেন নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম।

এর আগে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুতেই আঘাত হানে বাংলাদেশ। ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন নাহিদ রানা। এরপর আজান আওয়াইসও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। যদিও বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ মিলে লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন। তাদের জুটিতে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে তাইজুল ইসলামের স্পিনেই থামে পাকিস্তানের প্রতিরোধ।

শান মাসুদ ৭১ রান করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের পথে নিতে পারেননি। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা বড় জুটি গড়ে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও শেষ রক্ষা হয়নি পাকিস্তানের।

এর আগে প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের দুর্দান্ত ১২৬ রানের ইনিংসে ভর করে ২৭৮ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ২৩২ রানে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ৩৯০ রান তোলে টাইগাররা। ফলে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় কঠিন ৪৩৭ রানের লক্ষ্য।

এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ