ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেষ বিকেলে খানিক হতাশা, লিড নিয়েই এগিয়ে বাংলাদেশ

২০২৬ মে ১৭ ১৮:৪৫:০৩

শেষ বিকেলে খানিক হতাশা, লিড নিয়েই এগিয়ে বাংলাদেশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট ও বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের পুরোটা সময় জুড়েই দাপট দেখায় টাইগাররা। যদিও শেষ বিকেলে একটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা হতাশা ছিল, তারপরও দিন শেষে ১৫৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়ে স্বস্তিতে রয়েছে স্বাগতিকরা।

প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করা বাংলাদেশ বল হাতে শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেয়। দিনের প্রথম দুই সেশনেই সমান চারটি করে উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশি বোলাররা। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস থামে ২৩২ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। দুজনই তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। চার বোলারের ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পুরো দিন জুড়ে ম্যাচে আধিপত্য ধরে রাখে বাংলাদেশ।

দিনের শুরুতেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরানোর পর আরেক ওপেনার আজান আওয়াইজকেও সাজঘরে পাঠান তিনি। অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরিয়ে দেন শান মাসুদ ও সাউদ শাকিলকে। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।

একপ্রান্তে অবশ্য প্রতিরোধ গড়েছিলেন বাবর আজম। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩১তম অর্ধশতক তুলে নেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। তবে নাহিদ রানার গতি ও বাউন্সের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি তিনিও। ৬৮ রান করে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাবর। তার বিদায়ের পর পাকিস্তানের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। সালমান আঘা, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হাসান আলীকে ফিরিয়ে সফরকারীদের লড়াইয়ের সুযোগই দেননি এই বাঁহাতি স্পিনার।

চা বিরতির পর আবারও আঘাত হানেন নাহিদ রানা। খুররম শাহজাদকে ফেরানোর পর সাজিদ খানকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ করেন এই তরুণ পেসার।

৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় দারুণ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন। তানজিদ হাসান তামিম দ্রুত ফিরলেও জয় ইনিংসের হাল ধরেন এবং তুলে নেন দুর্দান্ত একটি অর্ধশতক। তবে ফিফটির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। আগ্রাসী শট খেলতে গিয়ে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫২ রান করে। তার ৬৪ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। তবে দিনের শেষদিকে খুররম শাহজাদের বলে আউট হন মুমিনুল। তিনি ৩০ রান করেন। দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১১০ রান। অধিনায়ক শান্ত ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।

এর আগে প্রথম ইনিংসে লিটন কুমার দাসের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে ১২৬ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও দুটি ছক্কা। লিটনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই প্রথম ইনিংসে লড়াই করার মতো পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ম্যাচে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনে বড় লিড গড়তে পারলে পাকিস্তানের জন্য ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ