ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সৌদি আরবে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান মোতায়েন—ঘটনা কী?

২০২৬ এপ্রিল ১২ ০৮:৩৩:৩১

সৌদি আরবে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান মোতায়েন—ঘটনা কী?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে হঠাৎ পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান মোতায়েন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও এর পেছনে রয়েছে কৌশলগত ও নিরাপত্তাজনিত গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর একটি দল যুদ্ধবিমানসহ সৌদি আরবে পৌঁছেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’র অংশ হিসেবেই এই মোতায়েন।

বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানি বাহিনী সৌদি আরবের ইস্টার্ন সেক্টরের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে যুদ্ধবিমান ও সহায়ক উড়োজাহাজ। মূল লক্ষ্য হচ্ছে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং যৌথ অপারেশনের প্রস্তুতি আরও জোরদার করা।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেও এই মোতায়েনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষ করে ইরানের প্রতিনিধিদলকে নিরাপদে ইসলামাবাদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে পাকিস্তান। এজন্য আকাশপথে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

পাকিস্তানের পাঠানো বহরে রয়েছে জেএফ-১৭ থান্ডার ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এছাড়া রয়েছে সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান, আইএল-৭৮ জ্বালানি ট্যাঙ্কার এবং আকাশে নজরদারির জন্য অ্যাওয়াক্স বিমান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শান্তি আলোচনাকে নির্বিঘ্ন রাখা। একই সঙ্গে আকাশপথে ‘আয়রন এসকর্ট’ বা কঠোর সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এর একটি বড় উদ্দেশ্য।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত