ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ঘোষণা

২০২৬ জুলাই ০৮ ২০:৫৩:২২

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ঘোষণা

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার পর মালয়েশিয়ায় নতুন করে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু শ্রমবাজার চালু হলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দালালচক্রের প্রভাব বন্ধ করা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?

মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। দেশটির নির্মাণ, কৃষি, পাম অয়েল, উৎপাদন শিল্প, সেবা ও বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। তুলনামূলক ভালো বেতন, নিয়মিত কর্মসংস্থান এবং ওভারটাইমের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশিদের কাছে দেশটি আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সচল হলে দেশের বেকার ও স্বল্প দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাড়বে রেমিট্যান্স প্রবাহ, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কেন বারবার বন্ধ হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সম্পর্ক কয়েক দশকের পুরোনো হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার নানা অনিয়মের কারণে বারবার সংকট তৈরি হয়েছে।

২০০৮ সালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৬ সালে জি-টু-জি প্লাস ব্যবস্থায় শ্রমবাজার চালু হলেও পরে আবারও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

২০১৮ সালে সীমিত কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো নিয়ে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ আসে। কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে আবারও শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়।

২০২২ সালে নতুন সমঝোতার মাধ্যমে কর্মী পাঠানো শুরু হলেও নিয়োগে সীমিত এজেন্সির অনুমোদন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। এতে হাজার হাজার কর্মী ভিসা পেয়েও দেশটিতে যেতে পারেননি।

এবার কী পরিবর্তন আসছে?

সরকার জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় আগের মতো সীমিত এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিবর্তে আরও স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনে সরকারি তদারকি থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় ঘোষণা হলো, এবার বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, সরকারি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা লেনদেন করা যাবে না। একই সঙ্গে আগাম মেডিকেল পরীক্ষা, পাসপোর্ট জমা বা কোনো ধরনের অর্থ প্রদান থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

বাস্তবে কতটা আশার আলো?

বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক খবর। তবে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল নজরদারি, স্বচ্ছতা এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে আবারও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

এখন মূল প্রশ্ন হলো— নতুন ব্যবস্থায় সত্যিই কি বাংলাদেশি কর্মীরা কম খরচে ও নিরাপদভাবে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন, নাকি পুরোনো সংকট আবার ফিরে আসবে। সেটিই দেখার বিষয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত