ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

হরমুজের আকাশে রহস্য: ২০ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন নিখোঁজ, বাড়ছে উত্তেজনা

২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৯:১৮:৫৮

হরমুজের আকাশে রহস্য: ২০ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন নিখোঁজ, বাড়ছে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায়। MQ-4C Triton নামের এই ড্রোনটি United States Navy-এর মালিকানাধীন এবং এটি হরমুজ প্রণালির আকাশে নজরদারি মিশনে ছিল। উড্ডয়নের সময় হঠাৎ জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই ড্রোনটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি শেষে ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফেরার পথে ছিল। অনলাইন ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, জরুরি পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত ‘৭৭০০’ কোড পাঠানোর পর এটি হঠাৎ ইরান-এর দিকে মোড় নেয় এবং দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকে। এরপরই রাডার থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়।

ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি কোনোভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে সদ্য একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, MQ-4C Triton ড্রোনটি বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল নজরদারি প্রযুক্তির একটি, যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলারের বেশি। এটি ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় উড়তে সক্ষম এবং বিশাল সমুদ্র অঞ্চলে নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এটি P-8A Poseidon টহল বিমানের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

এদিকে চলমান উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিভিন্ন গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে সংঘাত মোকাবিলায় প্রতিদিন শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে, যার বড় অংশই অস্ত্র, বিমান ও নৌ অভিযানে খরচ হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, একটি উন্নতমানের ড্রোনের রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়া শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, কূটনৈতিকভাবেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত