ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ড বললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৯:১৩:১০

বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ড বললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

বাংলাদেশ ক্রিকেট আবারও তুমুল বিতর্কের মুখে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড–এর আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন করে ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নির্বাচন কারচুপি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নবগঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে আনা হয়েছে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। তার সঙ্গে রয়েছেন দেশের ক্রিকেট অঙ্গনের অভিজ্ঞ কয়েকজন ব্যক্তি। তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা, বিশেষ করে কয়েকজন সদস্যের রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে।

সমালোচকদের অভিযোগ, যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ই এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এটিকে স্বজনপ্রীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনার জন্ম দেয়।

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ অধিবেশনে কঠোর ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, “বিসিবি এখন আর ক্রিকেট বোর্ড নেই, এটি ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে।” তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগের বোর্ড গঠনে গুরুতর অনিয়ম হয়েছিল এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছিল। তদন্তের ভিত্তিতেই সেই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নতুন অ্যাড-হক কমিটি গঠনে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি হয়নি, বরং অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই কমিটির মেয়াদ মাত্র তিন মাস। এই সময়ের মধ্যেই তারা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে এবং নির্বাচিত বোর্ডের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়া প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব নতুন নয়। অতীতেও বিসিবিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থায় ক্ষমতাসীনদের প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি সেই পুরনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

এখন সবার নজর তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির দিকে—তারা কি সত্যিই স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারবে, নাকি বিতর্ক আরও বাড়বে, সেটাই দেখার বিষয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ