ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্বর্ণের দামে বড় ধস : ট্রাম্পের বক্তব্যে কাঁ`প`ল বিশ্ববাজার

২০২৬ এপ্রিল ০৩ ১০:৪১:১১

স্বর্ণের দামে বড় ধস : ট্রাম্পের বক্তব্যে কাঁ`প`ল বিশ্ববাজার

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ বড় ধরনের পতন দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য—যেখানে তিনি ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখার কথা বলেন—এর পরপরই বাজারে এই ধস নামে। যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লেও স্বর্ণের দাম কমে যাওয়াটা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত।

আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ২.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৬২২ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারও প্রায় ৩.৪ শতাংশ কমে গেছে। দিনের শুরুতে দাম বাড়লেও ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই তা দ্রুত নিচে নেমে আসে এবং এক পর্যায়ে ৪ শতাংশেরও বেশি দরপতন ঘটে। তবে পুরো সপ্তাহ বিবেচনায় স্বর্ণ এখনো সামান্য ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো তেলের দাম বৃদ্ধি। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৬–৭ শতাংশ বেড়ে যায়, যা মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ফলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে যে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) হয়তো দ্রুত সুদের হার কমাবে না। আর সুদের হার বেশি থাকলে সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা কমে যায়।

এছাড়া মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়াও স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের পরিবর্তে ডলারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে গেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজার নিয়ে এখনো আশাবাদী অনেকে। তাদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগের চাহিদা বজায় থাকলে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে এবং নতুন রেকর্ডও গড়তে পারে। অন্যদিকে, রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, তেলের বাজার ও সুদের হার—এই তিনটি বড় ফ্যাক্টর এখন স্বর্ণের দামের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত