ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশের তেলবাহী ট্যাংকার নিয়ে নতুন ঘোষণা দিলো ইরান

২০২৬ মার্চ ১০ ১২:১৫:০২

বাংলাদেশের তেলবাহী ট্যাংকার নিয়ে নতুন ঘোষণা দিলো ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে ইরান। সরকারের অনুরোধের পর ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলোর চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ Strait of Hormuz দিয়ে চলাচলকারী তেল ও এলএনজি ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথটি ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

ইরান বাংলাদেশের অনুরোধে সম্মতি দিয়ে জানিয়েছে—বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশের আগে তাদের অবহিত করলে চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না।

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ডিজেলবাহী জাহাজ

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে একটি বড় চালান দেশে পৌঁছেছে।সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার Port of Chittagong বন্দরে পৌঁছেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে আরও চারটি ট্যাংকারে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনের বেশি জ্বালানি বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

দেশের জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহ

স্বাভাবিক সময়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা থাকে।বর্তমানে সরকার প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করছে।

আগামী পাঁচটি চালানে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি এলে প্রায় ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সহায়তার ইঙ্গিত ভারত ও চীনের

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury জানান, প্রয়োজন হলে India ও China বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত Yao Wen-ও জানিয়েছেন, জ্বালানি সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির সুযোগ

বর্তমানে Bangladesh Petroleum Corporation এবং ভারতের Numaligarh Refinery Limited-এর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী Bangladesh-India Friendship Pipeline দিয়ে বছরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়।

এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে, আর প্রয়োজনে অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন ডিজেল আমদানির সুযোগ রয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ

সরকার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

এজন্য ডাইরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট মেথড (DPM) ব্যবহার করে প্রায় ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সচিব Saiful Islam জানিয়েছেন, সরবরাহে কোনো ঘাটতি যেন না হয়, সেজন্য সব সম্ভাব্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে দেশের জ্বালানি মজুদ

সরকারি তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে—

ডিজেল: প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার টন (প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা)

অকটেন: ২৩ হাজার টন

পেট্রোল: ১৫ হাজার টন

ফার্নেস অয়েল: ৬৭ হাজার টন

জেট ফুয়েল: প্রায় ৬০ হাজার টন

কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট

জ্বালানি বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন করেছে বিপিসি।

বিশেষ করে চলমান বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত