ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বাড়ল তেলের দাম, শেয়ারবাজারে ধস

২০২৬ মার্চ ০২ ১০:৪১:৫৬

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বাড়ল তেলের দাম, শেয়ারবাজারে ধস

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে। সপ্তাহের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হুংকার দিয়েছে, বিপরীতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শেয়ারবাজারে। অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলার ও স্বর্ণে ঝুঁকছেন।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার অনুসারে, ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য এক দিনে প্রায় ৪.৫% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৬ ডলারের ঘরে স্থিত হয়েছে (এক পর্যায়ে ৮২ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়)। একইভাবে মার্কিন ক্রুডের দাম ৩.৯% বেড়ে প্রায় ৭০ ডলার ছুঁয়েছে। স্বর্ণের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩২৭ ডলারে উঠেছে—যা বাজারে অস্থিরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

উত্তেজনার কেন্দ্র: হরমুজ প্রণালি

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু।কারণ—

বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবহিত মোট তেলের ২০% এর বেশি এই পথ দিয়ে যায়

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখান দিয়ে পরিবাহিত হয়

যদিও পথটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি, তবুও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমা জটিলতায় দুই প্রান্তে আটকে আছে। ফলে তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছাতে পারছে না—যা স্বাভাবিক সরবরাহকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে।

তেলের দামের ধাক্কায় কাঁপলো শেয়ারবাজার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও তেলের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শেয়ারবাজারে।

Nikkei 225 সূচক প্রায় ১.৪% পতন দেখেছে, বিশেষ করে বিমান পরিবহন খাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

চীনের CSI 300 সূচক তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেলের দাম এইভাবে বেড়ে চললে মূল্যস্ফীতি আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তা, ব্যবসা–বাণিজ্য উভয়েই চাপের মুখে পড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে।

উৎপাদন বাড়ালেও শঙ্কা কাটছে না

গlobal জ্বালানি জোট OPEC+ এপ্রিলের জন্য তেল উৎপাদন প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বাড়ালেও মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা থাকলে সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

অনেকে বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর তেল নিষেধাজ্ঞা–পরবর্তী বৈশ্বিক অস্থিরতার সঙ্গে তুলনা করছেন—যে সময়ে তেলের দাম প্রায় ৩০০% পর্যন্ত বেড়েছিল।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত