ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খামেনির সন্ধান কারা দিল, কীভাবে তথ্য পেল, যেভাবে হা`ম`লা

২০২৬ মার্চ ০১ ১৭:৪৩:১২

খামেনির সন্ধান কারা দিল, কীভাবে তথ্য পেল, যেভাবে হা`ম`লা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার সর্বশেষ কেন্দ্রবিন্দু—ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর হামলার পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোপন অভিযানের একাধিক সূত্র বলছে, এ হামলা ছিল মাসের পর মাস পরিকল্পনা, নজরদারি ও সমন্বয়ের ফল।

কারা জানাল খামেনির অবস্থান?

অভিযান সম্পর্কে অবগত সূত্রের দাবি—মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) কয়েক মাস ধরে খামেনির চলাফেরা, অবস্থান এবং তাঁর নিরাপত্তা রুটিন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছিল।

সম্প্রতি সিআইএ জানতে পারে— তেহরানের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কমপ্লেক্সে শনিবার সকালে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হবে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা এবং সেখানে উপস্থিত থাকবেন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিজেও

এই তথ্যই পুরো অভিযানের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

গোয়েন্দারা কীভাবে পেলেন এই তথ্য?

বিশেষজ্ঞদের মতে—

পূর্ববর্তী সংঘাতের সময় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা জমা হয়েছিল

ইরানের প্রশাসনের ভেতরকার কিছু সূত্রও তথ্য পাচার করেছে বলে ধারণা

সাইবার নজরদারি, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ও মোবাইল সিগন্যাল ট্র্যাকিং মিলিয়ে সিআইএ অবস্থান নিশ্চিত করে

এটি ছিল এমন তথ্য, যা খুব কমই ফাঁস হয়—এ কারণেই হামলার সফলতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

শেষ মুহূর্তে বদলে যায় হামলার সময়

প্রাথমিক পরিকল্পনায় হামলা হওয়ার কথা ছিল রাতে।কিন্তু নতুন তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ কমান্ড হামলার সময় এগিয়ে আনে।

শনিবার ভোরেই আঘাত হানার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় যাতে খামেনির উপস্থিতি নিশ্চিত থাকে।

হামলা কীভাবে হয়েছিল?

সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী—

ভোরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে ওঠে

তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে

ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যে কমপ্লেক্সে আঘাত করে সেখানে ছিল— সর্বোচ্চ নেতার প্রধান অফিস প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কেন্দ্রীয় কক্ষ

এটি একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত অঞ্চল হওয়ায় এতটা নিখুঁত আক্রমণের জন্য স্পষ্ট গোয়েন্দা সহায়তা জরুরি ছিল।

সিআইএর তথ্যই ছিল ‘গেম চেঞ্জার’

সূত্রদের দাবি—এই হামলা সফল হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল সিআইএর নির্ভুল তথ্য, বিশেষ করে খামেনির উপস্থিতি নিশ্চিত করা।গত বছরের সংঘাতের পর ইরানের টপ-লেভেল নেতৃত্ব সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, যা এবার কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

ইরানের স্বীকারোক্তি ও হতাহতের খবর

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে—হামলায় একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।তবে খামেনির ওপর হামলার বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে— মাসব্যাপী গোয়েন্দা প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা উচ্চ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ

এই তিনটি দিক মিলে এ হামলা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত