ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেরিতে জ্বলে ওঠা বি`স্ফো`রণ: পাকিস্তানের রেকর্ড ওপেনিংয়ে বদলে গেল ম্যাচের চিত্র

২০২৬ মার্চ ০১ ১০:২৮:৩১

দেরিতে জ্বলে ওঠা বি`স্ফো`রণ: পাকিস্তানের রেকর্ড ওপেনিংয়ে বদলে গেল ম্যাচের চিত্র

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তানকে প্রয়োজন ছিল বড় ব্যবধানে জয়ের। এর জন্য দরকার ছিল আক্রমণাত্মক শুরু, যা পুরো টুর্নামেন্টে ছিল না তাদের কাছে। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি দেখালো ইতিহাস গড়া এক বিস্ফোরণ—যা দলটিকে আশার আলো দেখালেও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি।

অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনে শুরু পাকিস্তানের ঝড়

পাকিস্তানের দলীয় সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে বাদ দেওয়া হয় সাইম আয়ুব এবং বাবর আজমকে। ওপেনিংয়ে পাঠানো হয় অভিজ্ঞ ফখর জামানকে, ইন–ফর্ম সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে। টুর্নামেন্টে যে জায়গায় পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করেছে—সেই ওপেনিংয়েই আসে রেকর্ডবুক কাঁপানো ঝড়।

ম্যাচের শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চড়াও হন দুজন। মাত্র ৪.৪ ওভারে আসে ৫০ রানের জুটি, যা সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের কাছে ছিল দুর্লভ। পাওয়ারপ্লেতে দলের স্কোর চলে যায় ৬৪ রানে, যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ—১৭৬ রানের ধ্বংসাত্মক ওপেনিং

ফারহান–ফখরের ব্যাটে গড়ে ওঠে ১৭৬ রানের ভয়ঙ্কর পার্টনারশিপ, যা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি।বাউন্ডারি–ছক্কায় ভেসে যায় পুরো মাঠ—সম্পূর্ণ জুটিতেই আসে ১৬টি চার ও ৯টি ছক্কা।

৯.৫ ওভারে দল পৌঁছে যায় ১০০ রানে, ১৪ ওভারে স্পর্শ করে ১৫০। এমন ব্যাটিং পাকিস্তান বহুদিন দেখেনি।

ফখর আউট হওয়ার আগে খেলেন বিধ্বংসী ইনিংস, আর ফারহান তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি—এক বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার হিসেবে নাম লেখান।

x একই ম্যাচে আকাশ–পাতাল পার্থক্য

এই রেকর্ড–জুটির তাৎপর্য বোঝা যায় পাকিস্তানের টুর্নামেন্টের আগের পরিসংখ্যানে। প্রথম পাঁচ ম্যাচে ওপেনিং জুটি মিলে মোট রান ছিল মাত্র ১৩৫— অথচ একাই এই ম্যাচে তারা করে ১৭৬।এমনকি পাকিস্তানের ডট বলের হার কমে যায় ৩৯% থেকে ২৯%–এ, যা ছিল বড় পরিবর্তন।

কিন্তু মধ্য–ক্রম আবারও ব্যর্থ

ফখরের আউটের পর পরবর্তী ২৫ বলে পাকিস্তান তোলে মাত্র ৩৬ রান আর হারায় ৭ উইকেট।শেষ দুই ওভারে আরও ১০–১৫ রান তুলতে না পারায় ম্যাচের গতি বদলে যায়।ক্যাপ্টেন আগা সালমানও স্বীকার করেন—শেষের ব্যাটিংটাই তাদের পিছিয়ে দেয়।

পাকিস্তানের বিদায়, কিন্তু সামনে নতুন পথ দেখালো পরিবর্তন

যদিও পাকিস্তান সুপার–এইট পর্বেই বাদ পড়ে, তবুও এই ম্যাচ তাদের জন্য একটি নতুন শিক্ষার দরজা খুলে দিয়েছে।দ্রুত ও আক্রমণাত্মক ওপেনিংই হতে পারে ভবিষ্যতের সাফল্যের পথ।ফখরের এই ইনিংস তাঁর ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্মৃতি ফিরিয়ে দেয়—চাপের মুখে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তার এখনও অটুট।

দুঃখের বিষয়—এই ফর্ম যদি আরও আগে দেখা যেত, পাকিস্তানের ভাগ্য হয়তো অন্যরকম হতে পারত।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত