ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

নিউজিল্যান্ড–ইংল্যান্ড ম্যাচে কি হয়েছিলো ১৮তম ওভারের সেই ৬ বলে

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ০৮:৪১:৩৩

নিউজিল্যান্ড–ইংল্যান্ড ম্যাচে কি হয়েছিলো ১৮তম ওভারের সেই ৬ বলে

নিউজিল্যান্ড–ইংল্যান্ড ম্যাচে প্রায় পুরো সন্ধ্যাজুড়েই মনে হচ্ছিল যেন গ্লেন ফিলিপস হচ্ছেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভরসা। ব্যাট হাতে তিনি ছিলেন সুসংহত—স্পিনারদের বিপরীতে লম্বা ড্রাইভ, ছোট বল পুল করে চার–ছক্কা হাঁকানো—সব কিছুই ছিল নিয়ন্ত্রিত। ইনিংস শেষে তিনিই ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

বল হাতে তিনি তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ এক উইকেট। হ্যারি ব্রুক জায়গা বানিয়ে শট খেলতে চাইলে ফিলিপস ডানহাতি ব্যাটারের বিরুদ্ধে ভিন্ন অ্যাঙ্গেলে বল ঘুরিয়ে তাকে লং-অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। কিছুক্ষণ পরই বাউন্ডারি লাইনের কাছে দৌড়ে গিয়ে ডাইভ দিয়ে আরেকটি অসাধারণ ক্যাচ ধরেন জ্যাকব বেটেলের। তার সেই ফিল্ডিংও মুহূর্তে বদলে দেয় ম্যাচের রঙ।

সব মিলিয়ে এটি তারই রাত বলে মনে হচ্ছিল—রান, উইকেট, ক্যাচ—সব জায়গায় প্রভাব।

কিন্তু মোড় ঘুরল ১৮তম ওভারে।

ইংল্যান্ডের তখন প্রয়োজন ১৮ বল থেকে ৫৩ রান। পরিস্থিতি বিচার করে অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ফিলিপসকে বল হাতে এনে দিলেন। সিদ্ধান্তটি তড়িঘড়ি নেওয়া ছিল না—পুরো ম্যাচজুড়ে স্পিনারদের জন্য সহায়ক আচরণই দেখিয়েছে উইকেট। ইংল্যান্ডও প্রথম ইনিংসে স্পিনার দিয়ে ১৬ ওভার করিয়েছিল, যা তাদের টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

দুই ডানহাতি ব্যাটারকে সামনে রেখে পরিকল্পনা ছিল—ফিলিপসের অফস্পিন তাদের বড় দিকের বাউন্ডারির দিকে শট খেলতে বাধ্য করবে, যেখানে ধরার সুযোগ বাড়বে। বোলিং পরিবর্তনে যুক্তি ছিল, মাঠের মাপ ছিল, ম্যাচ-আপও পক্ষে ছিল।

কিন্তু বাস্তবতা হল ভিন্ন।

প্রথম আঘাত দেন রেহান আহমেদ। ক্যারিয়ারের প্রথম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেমেই এগিয়ে এসে লং–অনের ওপর দিয়ে উঁচু ছক্কা হাঁকালেন। ছক্কাটি শুধু স্কোরবোর্ড নয়, ম্যাচের মনস্তাত্ত্বিক পাল্লাকেও বদলে দেয়। তার পরেই উইল জ্যাকস তেড়ে আসেন।

জ্যাকস পরে বলেন, “রেহানের সেই ছক্কা আমাদের ভিতরে বিশ্বাস জাগিয়ে দেয় যে ম্যাচ এখনও হাতের নাগালে আছে।”

ওভারের শেষ তিন বল—ছয়, চার, চার।এক ওভারে ২২ রান।ইংল্যান্ড হঠাৎ করেই জেগে উঠল।

ফিলিপসের রাতের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত হয়ে থাকল এই ১৮তম ওভারই। বেটেলকে দারুণ ক্যাচে ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা ব্রুককে আউট করানো—এসব ছাপিয়ে গেল উইল জ্যাকসের ধারাবাহিক তিনটি শট।

জ্যাকস বলেন, “আমরা জানতাম, অফস্পিনারকে টার্গেট করতেই হবে। ঝুঁকি নিতে হতো। সেই ১৮তম ওভারই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়।”

স্যান্টনারও পরে স্বীকার করেন—পরিকল্পনা ভুল ছিল না, কিন্তু টি–টোয়েন্টিতে কয়েকটি ভালো শটই পুরো ম্যাচের হিসাব বদলে দিতে পারে। উইকেট, বড় বাউন্ডারি, টার্ন—সবই মাথায় রেখে কৌশল ছিল, কিন্তু জ্যাকস ও রেহানের ব্যাটে তা ব্যর্থ হয়ে যায়।

উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা টিম সাইফার্টের মতে, “এমন কিছু শট ছিল যেগুলো আটকানোর কোনো উপায় ছিল না।”

৩৭ ওভার জুড়ে ম্যাচে প্রভাব রেখেছিলেন গ্লেন ফিলিপস।কিন্তু ৩৮তম ওভারেই ম্যাচ সরে যায় নিউজিল্যান্ডের হাত থেকে।

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট—এখানে ছয়টি বলই রাতে সব কিছু পাল্টে দিতে যথেষ্ট।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ