ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

রমজান শুরু হতেই ফলের বাজারে আগুন,কয়েক গুণ বেড়েছে ফলের বাজার

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ০৯:২৪:৪৪

রমজান শুরু হতেই ফলের বাজারে আগুন,কয়েক গুণ বেড়েছে ফলের বাজার

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। রোজার আগে যেসব ফল সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে সেগুলোর দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে ইফতারের টেবিল সাজাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ খেজুরের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

খেজুরের বাজারে চরম অস্থিরতা

বর্তমানে প্রিমিয়াম মানের মেডজুল খেজুর প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মরিয়ম খেজুর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কালমী ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং সুকারী ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের মিনিফি খেজুরও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যান্য ফলেও ঊর্ধ্বগতি

খেজুরের পাশাপাশি আনার বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬২০ টাকা কেজি দরে। কালো আঙুর ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিদেশি ফলের মধ্যে গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা, কমলা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মালটা ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তুলনামূলক কম দামের ফল হিসেবে পেঁপে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, পেয়ারা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বেল ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দেশি ফলের বাজারেও প্রভাব পড়েছে। সবরী ও সাগর কলা ডজনপ্রতি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং চম্পা কলা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

সম্রাট কবির নামে এক ক্রেতা জানান, মাসের শুরুতে গ্রিন আপেল ৩২০ টাকায় কিনলেও এখন তা ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য ক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে সবুজ আঙুরের দাম ৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি

ফল ব্যবসায়ীরা জানান, তারা বাদামতলী পাইকারি আড়ত থেকে বেশি দামে ফল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। পাইকারিতে যে দামে কিনছেন, সীমিত লাভে সেই অনুযায়ী বিক্রি করছেন। অনেক সময় ফল নষ্ট বের হলে লোকসানও গুনতে হয় বলে দাবি তাদের।

রমজান ঘিরে ফলের বাজারে এই অস্থিরতায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

সারাদেশ এর অন্যান্য সংবাদ