ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাকিস্থানের ক্রিকেটারের ক্রিকেট ভাগ্য বদলে দিলেন ধোনি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৮:১৪:৫৭

পাকিস্থানের ক্রিকেটারের ক্রিকেট ভাগ্য বদলে দিলেন ধোনি

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বল হাতে তোলপাড় তুলেছিলেন রহস্যময় বোলিং অ্যাকশনের স্পিনার উসমান তারিক। অদ্ভুত ‘স্টপ-অ্যান্ড-পজ সাইড–আর্ম’ অ্যাকশনে আগেই আলোচনায় ছিলেন তিনি। সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে, যদিও দল শেষ পর্যন্ত হেরে যায় সূর্যকুমার যাদবদের কাছে।

মাত্র চারটি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে ১১ উইকেট, যেখানে ইকোনমি ছয়ের নিচে—এমন দাপুটে সূচনা তাক লাগিয়ে দিয়েছে ক্রিকেটবিশ্বকে। মোট ৪২টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁর শিকার ৭০ উইকেট।

সংগ্রাম থেকে শুরু তাঁর যাত্রাপেশোয়ারে বেড়ে ওঠা উসমানের শৈশব ছিল সংগ্রামে ভরা। বাবাকে হারানোর পর সংসারের আর্থিক চাপ নেমে আসে কাঁধে। চাকরির খোঁজে কখনো কাবুলের তীব্র শীতে ঘুরেছেন, কখনো হোটেলের রান্নাঘরে কাজ করেছেন—সবই টাকার প্রয়োজনেই।

বন্ধু হাসিব উর রহমান স্মৃতিচারণে বলেছেন,“তুষারপাত হচ্ছিল, মেঝে বরফে ঢেকে ছিল—আর উসমান চাকরি খুঁজে বেড়াচ্ছিল।”

ধোনির জীবনকাহিনি বদলে দেয় সবকিছু২০১৬ সালে প্রায় ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন উসমান। ঠিক তখনই দেখেন ভারতের সাবেক অধিনায়কMahendra Singh Dhoni–কে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র।

ধোনির জীবনের সংগ্রাম তাঁকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়—লড়াই করলে সবই সম্ভব। নতুন করে জেগে ওঠে প্রেরণা।

দুবাই থেকে দেশে ফেরা, আর বুনে ওঠা নতুন স্বপ্ন২০১৭ সালে দুবাইয়ের চাকরি ছেড়ে পাকিস্তানে ফিরে পুরোপুরি মন দেন ক্রিকেটে। দিন-রাত এক করে অনুশীলন করেন। তাঁর কঠোর পরিশ্রমই তাকে তুলে আনে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে। সেখানেই নজর কাড়েন নির্বাচকদের।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই করেন হ্যাটট্রিক—যা তাকে রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

ক্যারিয়ার পুনর্জন্মের পেছনে ধোনির ছায়াএএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উসমান বলেন—“ক্রিকেটে নাম করার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ধোনির সিনেমাটা দেখে বিশ্বাস পেলাম—আমিও পারি।”

সংবাদ সম্মেলনেও তিনি জানান,“ধোনির কঠিন সময়গুলো দেখে আমি বুঝেছি—ধৈর্য আর ভুল থেকে শেখাই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।”

মানসিক দৃঢ়তার গল্পউসমান বলেন—“আপনি যদি নিজের ভুল নিয়ে কাজ না করেন, তাহলে এগোনো কঠিন। ধোনিকে দেখে বুঝেছি—চাপের মুহূর্ত সামলাতে নিজেকে আরও শক্ত করতে হয়।”

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বদলে দিল ভাগ্যক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ২০ উইকেট নিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সই খুলে দেয় পাকিস্তান জাতীয় দলের দরজা।

মজার ঘটনা হলো—ঠিক যখন নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত, তখনই কোচের ফোনে জানতে পারেন জাতীয় দলে নির্বাচিত হয়েছেন।তিনি বলেন—“প্রথমে ভাবলাম মজা করছে! পরে বুঝলাম সত্যি। তাই মনে করি, আমার স্ত্রীই আমার জন্য সৌভাগ্য নিয়ে এসেছে।”

সংক্ষেপে বললেসংগ্রাম—পরিশ্রম—প্রেরণা—ধৈর্য—এটাই উসমান তারিকের গল্প। আর এই গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেন একজনই—ধোনি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত