ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হলেন যিনি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৭:২৫:৪৩

নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হলেন যিনি

বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গন থেকে বহু মানুষ সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু টেকনোক্র্যাট কোটায় কখনো কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদ মন্ত্রিত্ব পাননি। সেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নতুন অধ্যায় লিখলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তিনি টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

তার নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিসিবি সভাপতির শুভেচ্ছাবিসিবির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন—

“আমিনুল হকের মতো একজন অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন খেলায় তিনি জানেন মাঠের বাস্তবতা ও ক্রীড়াবিদদের চ্যালেঞ্জ। তার অভিজ্ঞতা দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দেবে।”

তিনি আরও জানান, বিসিবি ভবিষ্যতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, যাতে দেশের সব স্তরের খেলাধুলার অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়।

শপথ গ্রহণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ানবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের দিনই বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ অনুষ্ঠান নির্ধারিত হয়। সকালে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের ফোন করে দায়িত্ব জানানো হয়। সেই অনুযায়ী আমিনুল হকও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

যদিও তিনি ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন–এর কাছে পরাজিত হন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদের বাইরে থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী রাখা যায়, সেই সুযোগেই তার মন্ত্রিত্ব এসেছে।

ক্যারিয়ারে সাফল্য ও অর্জননব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন আমিনুল। দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে দীর্ঘ সময় খেলেছেন তিনি। গোলরক্ষক হয়েও ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় ছিলেন।

জাতীয় দলের প্রথম পছন্দ গোলরক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে—

২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ

২০১০ এসএ গেমস–এ জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন

পেনাল্টি রুখতে ছিলেন বিশেষ দক্ষ

রাজনীতিতে যাত্রা ও মন্ত্রিত্বের পথখেলোয়াড়ি জীবনের পর তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)–র রাজনীতিতে। দীর্ঘ সময় দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নির্যাতনের মুখে পড়েছিলেন বলেও আলোচনায় ছিলেন।

নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ক্রীড়া অর্জন, জনপ্রিয়তা ও অবদান বিবেচনায় তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিত্ব দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত ছিল।

ফুটবলারদের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পূর্ববর্তী ইতিহাসস্বাধীনতার পর সাবেক ফুটবলারদের মধ্যে প্রথম মন্ত্রী হন মেজর হাফিজ উদ্দিন। পরে আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হন।এছাড়া ক্রীড়া–সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন—

সাদেক হোসেন খোকা

সাকিব আল হাসান

মাশরাফি বিন মুর্তজা

তবে তাদের কেউই টেকনোক্র্যাট ছিলেন না—ফলে আমিনুল হক এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত