ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

যে কারনে পাকিস্তানকে শাস্তি দিতে পারবে না আইসিসি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:১৪:১৫

যে কারনে পাকিস্তানকে শাস্তি দিতে পারবে না আইসিসি

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না পাকিস্তান। দেশটির সরকারের সরাসরি নির্দেশে ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই আইসিসির সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে—এ ঘটনায় পাকিস্তানের ওপর বড় অঙ্কের জরিমানা কিংবা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

তবে আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি মনে করেন, যদি সরকারী নির্দেশে পাকিস্তান ম্যাচ না খেলে, তাহলে আইসিসির পক্ষে তাদের শাস্তি দেওয়া সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান সরকার

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্ব থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি। তিনি আইসিসির সিদ্ধান্তকে “বাংলাদেশের প্রতি অন্যায়” বলে মন্তব্য করেন এবং সংস্থাটির দ্বিচারিতা নিয়েও সরব হন।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবেই পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের বিপক্ষে খেলা বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বিপুল আর্থিক ক্ষতি

১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত মাঠে নামলেও পাকিস্তান না খেলায় বিশ্বকাপ আয়োজনে বড় ধাক্কা আসতে পারে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দ্বৈরথগুলোর একটি। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ম্যাচের বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

ব্রডকাস্টাররা শুধু ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের জন্যই ৪০–৫০ লাখ টাকা নিয়ে থাকে। পাকিস্তানের ম্যাচ বর্জনে বিশাল ক্ষতির কারণে আইসিসি শাস্তির বিধান প্রয়োগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

“একই নিয়মে ভারতকে ছাড় দেওয়া হলে পাকিস্তানকে কেন নয়?” — মানির প্রশ্ন

‘স্পোর্টসস্টার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এহসান মানি বলেন,

“পাকিস্তান যদি সরকারি নির্দেশ মেনে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের শাস্তি দেওয়ার অধিকার আইসিসির নেই। ভারত একই যুক্তিতে ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে রাজি হয়নি। তাহলে দ্বৈত মানদণ্ড কেন থাকবে?”

মানির মতে, আইসিসি সমস্যা সমাধানের বদলে দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থেকে ঘটনাগুলো ঘটতে দেখেছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

“ক্রিকেটের সঙ্গে সরকারকে জড়িয়ে দেওয়া সুযোগ তৈরি করেছে আইসিসি”

পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি বর্তমানে পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন। এহসান মানি মনে করেন, আইসিসি তাদের নীতিগত দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে ক্রিকেট বোর্ডগুলো সরাসরি সরকারকে জড়াতে পারছে।

তার ভাষায়—

“আপনারা এমন একটা পথ খুলে দিয়েছেন যে এখন দেশগুলো সহজেই তাদের সরকারকে যুক্ত করতে পারে। বিশেষ করে যখন জানা যায়, পিসিবির চেয়ারম্যানই সরকারের একজন মন্ত্রী।”

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ