ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশই সবার আগে আইসিসিকে লাথ্থি মেরেছে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০৭:৪৪:২৩

বাংলাদেশই সবার আগে আইসিসিকে লাথ্থি মেরেছে

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে টানাপোড়েনের শেষ নেই। পাকিস্তান শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বিশ্বকাপ খেললেও সরকারী নির্দেশে ভারত ম্যাচ বয়কট করবে বাবর আজমরা। এতে আইসিসির বড় আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ মনে করেন—এই সাহস দেখানোর ক্ষেত্রে প্রথম দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দেয় মুস্তাফিজ ইস্যুর পর। কিন্তু বারবার আলোচনা সত্ত্বেও আইসিসিকে রাজি করাতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসির বোর্ড সভায়ও হেরে যায় তারা।১৫ ভোটের মধ্যে কেবল পাকিস্তানই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়।

ভারতে না খেলতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর পাকিস্তানও জানায়—তারা বিশ্বকাপ খেলবে, তবে ভারত ম্যাচে অংশ নেবে না। এখানেই রশিদ লতিফ বলছেন, পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

ইউটিউব চ্যানেল ‘Caught Behind’–এ তিনি বলেন:“বাংলাদেশ যা করেছে, সেটাই আসলে অন্যদের সাহস দিয়েছে। বাংলাদেশই সবার আগে আইসিসিকে ঝাঁকুনি দিয়েছে। পাকিস্তান শুধু সেই অবস্থানের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বড় ক্ষতি

ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলোর একটি ভারত–পাকিস্তান লড়াই বাতিল হলে আইসিসি, ব্রডকাস্টার, স্পনসরসহ সব পক্ষের বড় আর্থিক ক্ষতি হবে।আনুমানিক ৫০ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আইসিসি নিজেই নাকি একা প্রায় ২০০ কোটি রুপি লোকসানের মুখে পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের রাজস্ব বণ্টনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বড় ব্রডকাস্টাররাও নাকি ক্ষতির কারণে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

“পাকিস্তান নিষেধাজ্ঞা নিয়েও চিন্তিত নয়”

রশিদ লতিফ মনে করেন, পাকিস্তান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অর্থনৈতিক ক্ষতি জেনেও করেছে। তিনি বলেন—“নিষেধাজ্ঞা দাও, সমস্যা নেই। পাকিস্তান জানে কতদূর যেতে দেবে পরিস্থিতি। শুধু পাকিস্তান নয়, অন্য দেশগুলোরও ক্ষতি হবে। সব টাকা আসে আইসিসির ইভেন্ট থেকে—এটা সবাই জানে।”

বিসিসিআই–আইসিসির আধিপত্যের বিরুদ্ধেই অবস্থান

রশিদ লতিফের দাবি, বিসিসিআই ও আইসিসির আধিপত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।তার মতে, আরেকটি দেশ এই অবস্থানে যোগ দিলে দ্রুতই সমাধান বেরিয়ে আসবে। এমন হলে তিনি বিশ্বাস করেন—বাংলাদেশকেও হয়তো আবার বিশ্বকাপে ফেরানো হবে।

তিনি বলেন—“যদি আরও একদেশ আমাদের পাশে দাঁড়ায়, পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়েই সমাধান হয়ে যাবে। বাংলাদেশও তখন বিশ্বকাপ খেলতে পারে।”

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত