ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

পালাচ্ছেন হাজার হাজার বাসিন্দা! পাকিস্তানে কী ঘটেছে জানেন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ০৯:২৬:৩৭

পালাচ্ছেন হাজার হাজার বাসিন্দা! পাকিস্তানে কী ঘটেছে জানেন

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম তিরাহ উপত্যকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক অস্থিরতা। সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। শীতের ভয়াবহ আবহাওয়া, তুষারঝড় আর কঠিন পাহাড়ি পথ—সব বাধা উপেক্ষা করেই মানুষজন পরিবার–পরিজন নিয়ে নিকটবর্তী শহরগুলোর দিকে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকার বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করে বাসিন্দাদের দ্রুত ঘরবাড়ি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষজন তড়িঘড়ি করে এলাকা ছাড়তে শুরু করেন। উপত্যকা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে বারার শহরে আশ্রয় নেওয়া গুল আফ্রিদি বলেন, “ঘোষণা শোনার পর সবাই বের হতে শুরু করে। আমরাও বাধ্য হয়ে চলে এসেছি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, হাজারের বেশি পরিবার ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়েছে এবং আশ্রিত মানুষদের তালিকাভুক্ত করে সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

তিরাহ উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা ঝুঁকির এলাকা হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) এই অঞ্চলে সক্রিয় বলে মনে করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলার কারণে অঞ্চলটি বিশেষ নজরদারিতে থাকে।

তবে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করছে, এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান চলছে না বা পরিকল্পনাও নেই। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ জানান, কঠিন শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ মৌসুমি স্থানান্তরের অংশ হিসেবেই এলাকা ছাড়ছেন।

সামরিক সূত্র অন্য একটি বক্তব্য দিয়েছে। তারা জানায়, কয়েক মাস ধরে জঙ্গি উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে উপজাতীয় নেতা, জেলা প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছিল। জঙ্গিরা নাকি এলাকাবাসীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, তাই বেসামরিক মানুষদের সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে যেতে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে বর্তমান আবহাওয়া ও কঠিন পাহাড়ি পরিবেশের কারণে বড় কোনো সামরিক অভিযান শুরু করার মতো পরিস্থিতি নেই।

অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি কেন্দ্রের বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, “এটি কোনো মৌসুমি স্থানান্তর নয়। নিরাপত্তা অভিযানের আশঙ্কা এবং চাপের মুখে মানুষ প্রবল শীতের মাঝেই ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে।”

এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাকিস্তানের আইএসপিআর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রাদেশিক সরকার—কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত