ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের পর বড় ধাক্কার মুখে ভারত! বড় আসর আয়োজন নিয়েও শঙ্কা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ০৮:২৪:০৫

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের পর বড় ধাক্কার মুখে ভারত! বড় আসর আয়োজন নিয়েও শঙ্কা

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতকে ভেন্যু হিসেবে মেনে নিতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় বিসিবি। তবে ২১ জানুয়ারির বোর্ডসভা শেষে আইসিসি জানিয়ে দেয়—ভেন্যু বদল নয়, খেলতে চাইলে ভারতেই খেলতে হবে।

বাংলাদেশ নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের জায়গায় বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্কটল্যান্ডকে।

এ সিদ্ধান্ত শুধু ক্রিকেট নয়, ভারতের সমগ্র ক্রীড়াঙ্গনের ওপরই বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নে ইতিমধ্যেই বড় ধরনের চাপে পড়েছে দেশটি।

অলিম্পিক আয়োজন স্বপ্নে রাজনৈতিক ছায়া! আইওসি উদ্বিগ্ন

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC) সবসময় খেলাধুলায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নীতির ওপর কঠোর অবস্থানে থাকে। বাংলাদেশ–ভারত ক্রিকেট সম্পর্কের সাম্প্রতিক সংকট, বিশ্বকাপ বয়কট এবং বিসিসিআই–আইসিসি সম্পর্কের গুঞ্জন—সবগুলোই এখন ভারতের অলিম্পিক বিডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়—

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো শুধু নিরাপত্তা নয়, দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক উত্তেজনাও ইস্যুর পেছনে রয়েছে।

আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

বিসিসিআইয়ের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে আইসিসিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

আইওসি: রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে অলিম্পিক আয়োজন অসম্ভব

আইওসি সূত্র বলছে—যদি কোনো দেশের কারণে অন্য দেশগুলো বয়কটের আশঙ্কায় থাকে, তাহলে তাদেরকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া যায় না। কারণ অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী সব ক্রীড়া সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে থাকতে হবে।

গার্ডিয়ান উদাহরণ দিয়ে জানায়—

ইসরায়েলি ক্রীড়াবিদদের ভিসা না দেওয়ায় ইন্দোনেশিয়াকে ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আলোচনার ক্ষেত্র থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ফলে ভারতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিণতি ঘটতে পারে যদি পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যায়।

পাকিস্তানও বয়কটের পথে? উত্তপ্ত উপমহাদেশ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে—পাকিস্তানও বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।এছাড়া ভারত–পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজের অনিশ্চয়তা, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে জটিলতা—সব মিলিয়ে উপমহাদেশে ক্রিকেট-রাজনীতি এখন চরম পর্যায়ে।

আইওসি সূত্র মতে—ভারতকে অলিম্পিক আয়োজনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হবে তখনই, যখন তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত