ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সোনার দামের রেকর্ড পতন: একলাফে ভরিতে ৮০ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম!”

২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১৭:৫৯:৩৮

সোনার দামের রেকর্ড পতন: একলাফে ভরিতে ৮০ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম!”

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে এমন ধস বহুদিন দেখা যায়নি। মাত্র দুই দিন আগেই আউন্সপ্রতি ৫,৫৫০ ডলার ছুঁয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছিল হলুদ ধাতুটি। কিন্তু রেকর্ড ছোঁয়ার পরপরই বাজারে নেমেছে তীব্র দরপতন। মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় স্বর্ণের আউন্সপ্রতি দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ভরিতে ৮০ হাজার টাকারও বেশি হ্রাস নির্দেশ করে।

বিশ্ববাজারের এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। বৃহস্পতিবার হঠাৎ এক ধাপে বড় অংকে দাম বাড়ানোর পর, শুক্রবার আবারও মূল্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

কেন হঠাৎ এমন ধস?—বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বৈশ্বিক কারণ একসাথে কাজ করায় স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে—

১. ব্যাপক প্রফিট–বুকিং

রেকর্ড দামের পর বিনিয়োগকারীরা নিরাপদে লাভ তুলে নেওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে যায়। এতে দাম দ্রুত কমে।

২. ডলারের শক্তিশালী অবস্থান

মার্কিন ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত স্বর্ণের দাম চাপের মুখে পড়ে। এবারও ঘটেছে তাই।

৩. বাজারে মূল্য সংশোধন (Price Correction)

হঠাৎ দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফনের পর বাজার আবার স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসে—এটাই মূল্য সংশোধন।

৪. সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার উচ্চ থাকতে পারে। এটি স্বর্ণের চাহিদা কমিয়ে দেয়।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ন্যাটো উত্তেজনার কারণে স্বর্ণের মূল্য দ্রুত বেড়েছিল।

বাংলাদেশে স্বর্ণের নতুন দাম

বিশ্ববাজারে পতনের পর বাজুস স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ ঘোষিত দাম অনুযায়ী—

২২ ক্যারেট: ২,৭১,৩৬৩ টাকা

২১ ক্যারেট: ২,৫৯,০০০ টাকা

১৮ ক্যারেট: ২,২২,০২৪ টাকা

সনাতন: ১,৮২,৮৩৩ টাকা

রুপার নতুন দাম (প্রতি ভরি)

২২ ক্যারেট: ৭,৭৫৭ টাকা

এক দিনের ব্যবধানে এই দ্রুত মূল্য পরিবর্তন গ্রাহকদের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্বর্ণের দাম কেন ওঠানামা করে?

স্বর্ণ সবসময়ই নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।যখন—

অর্থনীতি অস্থির হয়

যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়

মুদ্রার মান কমে

বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ে

তখন মানুষ স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়ায়—ফলে দাম বাড়ে।অন্যদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বা চাহিদা হ্রাস পেলে দাম পড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্প মেয়াদে দাম কমলেও দীর্ঘ সময়ে আবারও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। সাপ্লাই কমা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আগামী দিনে স্বর্ণের দামকে আরও অস্বাভাবিক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত