ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভারতের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিলো বাংলাদেশ–পাকিস্তান! উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্রীড়াঙ্গন

২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১৭:১০:৪৬

ভারতের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিলো বাংলাদেশ–পাকিস্তান! উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্রীড়াঙ্গন

ভারত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। দিল্লি ও আহমেদাবাদকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখছে দেশটি। তবে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের সেই স্বপ্নপথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে—এমনই তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে।

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সংকট—যেখানে বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে—এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।

কেন আটকে যেতে পারে ভারতের অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন?

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC) রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। IOC–এর একটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে—

যদি প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতের মাঠে খেলতে অস্বস্তি বোধ করে বা বয়কটের আশঙ্কা থাকে,

কিংবা রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানো না যায়,

তাহলে ভারতকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া “অকল্পনীয়” হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনা: বিশ্বকাপ থেকেই শুরু

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নির্ধারিত ছিল কলকাতা ও মুম্বাইয়ে।কিন্তু—

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি,

মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে আইপিএলে বিতর্ক,

রাজনৈতিক সংগঠনের আন্দোলন,

এসব কারণে বাংলাদেশ নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।পরবর্তীতে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করলেও আইসিসি তা মানেনি, বরং টুর্নামেন্ট থেকেই বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে দেয়।

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, আইসিসির এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতের প্রভাব স্পষ্ট।

ভারতীয় রাজনীতি ও ক্রিকেট—একই সুতোয় বাঁধা

আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ—ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে।আইসিসির প্রধান নির্বাহী সানযোগ গুপ্ত—ভারতের জিও স্টার গ্রুপের সাবেক নির্বাহী।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়—ক্রিকেট সিদ্ধান্তে ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব “ওপেন সিক্রেট”, যা অলিম্পিকের মতো কঠোর আন্তর্জাতিক কাঠামোয় চলবে না।

ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ: IOC কতটা কঠোর?

২০২৫ সালে ইসরায়েলি অ্যাথলেটদের ভিসা না দেওয়ায় ইন্দোনেশিয়াকে IOC সরাসরি

নিষিদ্ধ,

ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আলোচনাতেও বাইরে রেখেছিল।

গার্ডিয়ানের মতে—ভারতের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ক: আরও এক বড় বাধা

পাকিস্তান ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ বয়কটের ধারণা বিবেচনা করছে।দুটি দেশের মধ্যেই রয়েছে—

সীমান্ত উত্তেজনা

কূটনৈতিক সংঘাত

দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে টানাপোড়েন

এমন পরিস্থিতিতে IOC–এর কাছে ভারতকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ আয়োজক হিসেবে তুলে ধরা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

অলিম্পিকে ক্রিকেট যোগ—কিন্তু শর্তও কড়া

ক্রিকেট ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস ও ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকে যুক্ত হচ্ছে।ভারত বিশাল বাজার হওয়ায় IOC ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করেছে—তবে রাজনৈতিক শর্তে “কোনো ছাড়” দেবে না বলেই গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

IOC–এর বার্তা স্পষ্ট: সম্পর্ক ঠিক করুন, নইলে অলিম্পিক পাবেন না

IOC সূত্রের ভাষায়—

“ভারতকে বিশ্বাসযোগ্য আয়োজক হতে হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুস্পষ্ট উদ্যোগ দেখাতে হবে।”

এখন দেখার বিষয়—ভারত কি কূটনৈতিকভাবে এই চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারে, নাকি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক টানাপোড়েনই থামিয়ে দেয় তাদের শতাব্দীর বড় অলিম্পিক স্বপ্ন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত