ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আইসিসির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিশ্ব ক্রিকেট

২০২৬ জানুয়ারি ২৬ ১৫:০৬:২৭

আইসিসির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিশ্ব ক্রিকেট

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) প্রধান নির্বাহী টম মোফাট। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মতো একটি পূর্ণ সদস্য দেশের অনুপস্থিতি শুধু ওই দেশের ক্রিকেটার ও সমর্থকদের জন্য নয়, গোটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্যই দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।

মোফাটের সঙ্গে একই সুরে কথা বলেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পি, পাকিস্তানের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি এবং সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ। তাঁদের সবারই মত, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ না থাকলে সেটির গ্রহণযোগ্যতা ও পূর্ণতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

রশিদ লতিফ স্পষ্ট করে বলেন, কোনো পূর্ণ সদস্য দেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করা অর্থহীন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানেরও কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। এমনকি প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বর্জনের কথাও বিবেচনায় আনা যেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। লতিফের ভাষায়, “পাকিস্তান যদি না খেলে, তাহলে পুরো টুর্নামেন্টের কাঠামোই নড়বড়ে হয়ে যাবে।”

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আগেই জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা বয়কটের বিষয়ে তারা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখবাজ শরিফের উপদেষ্টারাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের মতে, আর্থিক ক্ষতি হলেও নীতিগত অবস্থান রক্ষাই হবে বড় বিষয়।

ডব্লিউসিএ প্রধান টম মোফাট বলেন, “টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। এটি খেলোয়াড়, সমর্থক এবং পুরো ক্রিকেট পরিবারকে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।” তিনি ক্রিকেটের সব অংশীজনকে বিভক্তির পথ ছেড়ে ঐক্যের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।

এদিকে, আইসিসির সিদ্ধান্তে দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলেছেন জেসন গিলেস্পি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে খেলতে না চাইলে তাদের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও বাংলাদেশকে কেন বিকল্প ভেন্যু দেওয়া হলো না?

শহীদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফও আইসিসির ভূমিকা নিয়ে সরাসরি হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, একটি ক্রিকেটপ্রেমী দেশকে নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া আইসিসির নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের অনুপস্থিতিতে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুধু একটি দল হারায়নি, বরং হারিয়েছে কোটি সমর্থকের আবেগ ও একটি ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট শক্তির উপস্থিতি। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত