ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশকে নিয়ে ‍চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলো আইসিসি

২০২৬ জানুয়ারি ২২ ০৮:২১:১৬

বাংলাদেশকে নিয়ে ‍চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলো আইসিসি

আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিনের আলোচনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—বাংলাদেশকে খেলতে হলে ভারতেই খেলতে হবে, ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। অন্যথায় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জায়গায় বিকল্প দল নেওয়ার পথ খোলা রাখছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিল, ভারতের পরিবর্তে তাদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক। এ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে একাধিকবার চিঠি চালাচালি ও বৈঠক হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আইসিসি তাদের সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতের ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকির প্রমাণ মেলেনি।

আইসিসির ভাষ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা ও সময়সূচির ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে এখন আর ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সংস্থাটি মনে করছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে অন্য দলগুলোর জন্য লজিস্টিক জটিলতা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হিসেবে তা আইসিসির শাসনব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে।

ক্রিকেট বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে আইসিসি। এই সময়ের মধ্যেই তাদের চূড়ান্তভাবে জানাতে হবে—ভারতে গিয়ে খেলবে কি না বাংলাদেশ। যদি বিসিবি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে এবং দল না পাঠানোর ঘোষণা দেয়, তাহলে গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের জায়গায় র‍্যাংকিং অনুযায়ী স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এই সংকটের সূচনা হয় আইপিএলে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বলে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর। তখনই বিসিবি প্রশ্ন তোলে, যখন একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তখন বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে পুরো দল, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? এ যুক্তি দেখিয়েই তারা ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশিদের ওপর হামলার সংবাদ ও ভিডিও আইসিসিকে পাঠায়।

তবে আইসিসি শুরু থেকেই এসব দাবি গ্রহণ করেনি। সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশের অবস্থানের পক্ষে সমর্থন জানালেও, ভার্চুয়াল বোর্ডসভায় অধিকাংশ সদস্য দেশের ভোট বাংলাদেশের বিপক্ষেই গেছে বলে জানা গেছে। সেই বৈঠকেই মূলত সিদ্ধান্ত হয়—ভারতে খেলতে রাজি না হলে বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্য দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের মধ্যে তিনটি হওয়ার কথা কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। দলটির সফরের সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে ২৭ জানুয়ারি। এখন দেখার বিষয়, এই সময়সীমার মধ্যে বিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয়—ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশ নেবে, নাকি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা ইস্যুতে একটি পূর্ণ সদস্য দেশকে বাদ দিয়েই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পথে হাঁটবে আইসিসি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ