ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

এক ফোঁটা পেট্রোলেই ধরা পড়ে ভেজাল, জানুন সেই গোপন কৌশল

২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৫:২৫:০১

এক ফোঁটা পেট্রোলেই ধরা পড়ে ভেজাল, জানুন সেই গোপন কৌশল

গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল সচল রাখতে মানসম্মত জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশে অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত লাভের আশায় পেট্রোলে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করে থাকেন। এর ফলে যানবাহনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাইলেজ কমে যায় এবং চালকদের ভোগান্তি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল পেট্রোল ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই পেট্রোল কেনার সময় সচেতন থাকা জরুরি। কিছু সহজ উপায়ে পেট্রোল আসল না নকল তা বোঝা সম্ভব।

প্রথমত, পেট্রোলের গন্ধ খেয়াল করা যেতে পারে। আসল পেট্রোলের গন্ধ তীব্র ও পরিচিত হলেও ভেজাল পেট্রোলের গন্ধ তুলনামূলকভাবে হালকা কিংবা অস্বাভাবিক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কেমিক্যালের মতো গন্ধও পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, পেট্রোলের রঙ লক্ষ্য করা জরুরি। সাধারণত আসল পেট্রোল হালকা হলুদ বা প্রায় বর্ণহীন হয়। রঙ বেশি গাঢ়, মেঘলা বা অস্বাভাবিক হলে তা ভেজাল হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।

এছাড়া পানির সাহায্যেও পরীক্ষা করা যায়। স্বচ্ছ পাত্রে পানি নিয়ে তার ওপর অল্প পেট্রোল ঢাললে আসল পেট্রোল পানির ওপরে আলাদা স্তরে ভেসে থাকে। কিন্তু ভেজাল পেট্রোল পানির সঙ্গে মিশে যেতে পারে বা পানির রঙ পরিবর্তন করতে পারে।

কাগজে কয়েক ফোঁটা পেট্রোল দিয়ে শুকাতে দিলেও পার্থক্য বোঝা যায়। আসল পেট্রোল শুকিয়ে গেলে কোনো দাগ থাকে না, কিন্তু ভেজাল পেট্রোলে তেলের মতো দাগ পড়ে থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, পেট্রোল পোড়ানোর সময় যদি কালো ধোঁয়া দেখা যায় বা জ্বালানি ঠিকমতো না জ্বলে, তবে সেটি ভেজাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পেট্রোল নেওয়ার পর গাড়ির শক্তি কমে যাওয়া, ইঞ্জিন বারবার বন্ধ হয়ে আসা, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা মাইলেজ হঠাৎ কমে গেলে জ্বালানির মান নিয়ে সন্দেহ করা উচিত।

ভেজাল পেট্রোল শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং ইঞ্জিনের বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাই বিশ্বস্ত পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি কেনা এবং প্রয়োজনে এসব সহজ পরীক্ষা করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ