ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

৩ মাসের ইকামা” আসলে কী? প্রবাসীদের সঙ্গে বড় ধোঁকাবাজির ভেতরের সত্য জেনেনিন

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ০৮:৩২:৩৯

৩ মাসের ইকামা” আসলে কী? প্রবাসীদের সঙ্গে বড় ধোঁকাবাজির ভেতরের সত্য জেনেনিন

সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে “৩ মাসের ইকামা” নামে একটি বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। অনেককেই বলা হচ্ছে, মাত্র ৯০ দিনের ইকামা করে দেওয়া হবে, পরে স্থায়ী করা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই তথাকথিত ৩ মাসের ইকামা আদতে কোনো আলাদা ক্যাটাগরির ইকামাই নয়। এটি সৌদি সরকারের দেওয়া স্বাভাবিক পরীক্ষামূলক সময় (Probation Period) ছাড়া কিছুই না।

সৌদি আরবে কেউ নতুনভাবে কাজের ভিসায় প্রবেশ করলে, বিমানবন্দরে ঢোকার দিন থেকেই তার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯০ দিনের একটি পরীক্ষামূলক সময় শুরু হয়। এই সময়টাকে আইনি ভাষায় বলা হয় Probation Period বা পরীক্ষামূলক মেয়াদ।

এই ৯০ দিনে কী হয়?

এই সময়ের মধ্যে—

কোম্পানি বা কফিল কর্মীর দক্ষতা, আচরণ ও কাজের সক্ষমতা যাচাই করে।কর্মী যদি অদক্ষ বা অনুপযুক্ত প্রমাণিত হয়, তাহলে কফিল কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তাকে এক্সিট দিতে পারে।একইভাবে, কর্মীর যদি ডিজিটাল চুক্তি (ডিজিটাল কন্ট্রাক্ট) থাকে এবং চুক্তি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা না পায়, তাহলে কর্মীও কোম্পানি পরিবর্তন বা চুক্তি বাতিল করার অধিকার রাখে।

এই সময়ের মধ্যেই কর্মীর জন্য একটি অস্থায়ী বা টেম্পোরারি ইকামা নম্বর তৈরি করে আবশিরে যুক্ত করা হয়। আবশির অ্যাপে ঢুকলে সেখানে ইকামার মেয়াদ হিসেবে দেখা যায় মাত্র ৯০ দিন। অনেক এজেন্ট ও দালাল এই বিষয়টাকেই ঘুরিয়ে বলে—“৩ মাসের ইকামা করে দেওয়া হয়েছে”।

কিন্তু সত্যটা হলো—

এই ৯০ দিনের ইকামা কোনো বিশেষ সুবিধা বা আলাদা স্কিম নয়।এটা সরকার কর্তৃক স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া ফ্রি ট্রায়াল পিরিয়ড।এই সময়ের জন্য কফিল বা কোম্পানিকে আলাদা কোনো ফি পরিশোধ করতে হয় না।

অথচ কিছু অসাধু চক্র এটাকেই “৩ মাসের ইকামা”, “শর্ট ইকামা”, “ট্রায়াল ইকামা” ইত্যাদি নামে বিক্রি করে প্রবাসীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে অনেকেই না বুঝেই প্রতারিত হচ্ছেন।

সংক্ষেপে বলা যায়,“৩ মাসের ইকামা” বলে আলাদা কিছু নেই। এটা প্রত্যেক প্রবাসীর জন্য স্বাভাবিক ৯০ দিনের পরীক্ষামূলক সময়, যেটা সৌদি শ্রম আইনের অংশ।

প্রবাসীদের উচিত—

ডিজিটাল কন্ট্রাক্ট ভালোভাবে যাচাই করাআবশিরে ইকামার স্ট্যাটাস নিজে দেখাদালাল বা কথার ওপর নয়, অফিসিয়াল তথ্যের ওপর নির্ভর করা

সচেতন থাকলেই এই ধরনের ধোঁকাবাজি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত