ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যে একটি খবরেই উপমহাদেশের ক্রিকেট মহলে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে

২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৫:৫৬:৫৬

যে একটি খবরেই উপমহাদেশের ক্রিকেট মহলে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে

আফগানিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে যাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, সেই শাপুর জাদরান এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ২০১৫ বিশ্বকাপে আফগানদের প্রথম জয় এনে দেওয়া এই সাহসী ফাস্ট বোলার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বয়স মাত্র ৩৮, অথচ জীবনের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচটি এখন তাকে খেলতে হচ্ছে মাঠের বাইরে।

যুদ্ধ, দারিদ্র্য আর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মাঝেও যে কজন ক্রিকেটার আফগানিস্তানকে বিশ্বক্রিকেটে পরিচিত করে তুলেছিলেন, শাপুর জাদরান ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তার আগ্রাসী বোলিং, লড়াকু মানসিকতা আর চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা করে চিনিয়েছে।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। ১২ জানুয়ারি তার ভাই ঘামাই জাদরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, শাপুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তার শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার কথা জানা গেছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে।

তবে এখনো অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি। এই অনিশ্চয়তাই ভক্ত ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই আফগানিস্তান ছাড়াও পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারতসহ পুরো উপমহাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে শোক ও উৎকণ্ঠার ছায়া নেমে এসেছে। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন,“যে মানুষটি সারাজীবন সিংহের মতো লড়েছে, আজ তার জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে আমাদের সবার দোয়া প্রয়োজন।”

তার এই আহ্বানের পর বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটার, কোচ, বিশ্লেষক ও ভক্তরা শাপুর জাদরানের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা জানাচ্ছেন।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর প্রায় এক দশক ধরে আফগানিস্তানের পেস আক্রমণের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন শাপুর। তিনি খেলেছেন ৪৪টি ওয়ানডে ও ৩৬টি টি–টোয়েন্টিসহ মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে ব্যাট হাতে জয়সূচক রান করে তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় নায়ক। সেই ইনিংস আজও আফগান ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়গুলোর একটি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও শাপুর জাদরান এখনো আফগান তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণার প্রতীক। আর আজ তার সুস্থতার জন্য গোটা ক্রিকেট বিশ্ব এক কণ্ঠে প্রার্থনা করছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত