ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভেলকি! লঙ্কা নয় পাকিস্তানে বিশ্বকাপ ম‍্যাচ! পিসিবি-বিসিবি একাট্টা! চাপে আইসিসি ও ভারত

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ০৯:২২:৩৮

ভেলকি! লঙ্কা নয় পাকিস্তানে বিশ্বকাপ ম‍্যাচ! পিসিবি-বিসিবি একাট্টা! চাপে আইসিসি ও ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভেন্যু ইস্যুতে তৈরি হয়েছে নতুন মেরুকরণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহকে বাংলাদেশের এই ইস্যু নিয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে হয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফো দাবি করেছিল যে, বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি আইসিসি নাকচ করে দিয়েছে। তবে বিসিবি তাৎক্ষণিকভাবে এই খবরটি সঠিক নয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করে। মূলত ভারত-কেন্দ্রিক কিছু সাংবাদিকের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত বিসিবি ও পিসিবি’র অনড় অবস্থানের কাছে আইসিসি নমনীয় হতে বাধ্য হচ্ছে।

এই কূটনৈতিক লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি আইসিসিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন যে, যদি শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে অপরাগতা প্রকাশ করে, তবে পাকিস্তান তাদের দেশে এই ম্যাচগুলো আয়োজন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মহসিন নাকভির এই সাহসী ও কৌশলী অবস্থান আইসিসি এবং বিসিসিআইকে রীতিমতো বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বিসিবি ও পিসিবি’র এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বিসিসিআই-এর একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মহসিন নাকভির এই পদক্ষেপকে একটি বড় ধরনের ‘ডিপ্লোম্যাটিক উইন’ বা কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি এশিয়া কাপের ট্রফি ইস্যুকে কেন্দ্র করে আইসিসি মিটিংয়ে তিনি যেভাবে ভারতীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে ডিল করেছেন, তা তার শক্তিশালী নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।

সবশেষ সমীকরণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলোর জন্য বিকল্প পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিই অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে। কলম্বোর দুটি আলাদা ভেন্যুতে এই ম্যাচগুলো আয়োজিত হতে পারে। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের একটি ম্যাচ ভারতের চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইসিসি এবং বিসিসিআই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা না দিলেও পিসিবি’র দেওয়া বিকল্প প্রস্তাব এবং বিসিবি’র অনড় অবস্থান প্রমাণ করে যে, বিশ্ব ক্রিকেটের রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আইসিসি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বিসিবি ও পিসিবি’র এই ক্রিকেট কূটনীতি আইসিসি ও বিসিসিআই-এর ওপর যে চাপ তৈরি করেছে, তা বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করল।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ