ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশ খেলতে না গেলে ভারতের যত কোটি টাকা ক্ষতি হবে

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ২২:১১:২৫

বাংলাদেশ খেলতে না গেলে ভারতের যত কোটি টাকা ক্ষতি হবে

আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ভারতে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ–ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ এই ম্যাচগুলো ঘিরে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতোমধ্যে আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছে—ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নিতে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যদি সত্যিই ভারত থেকে সরানো হয়, তাহলে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুস্তাফিজ ইস্যু থেকে বিশ্বকাপ অনিশ্চয়তা

ইস্যুটির সূত্রপাত মূলত মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে। আসন্ন আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার কথা থাকলেও, বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার এবং বিসিবি—উভয় পক্ষ থেকেই ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আইপিএলের সব ধরনের সম্প্রচার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং বিশ্বকাপে দল পাঠানো নিয়েও কঠোর অবস্থান নেয় বিসিবি।

শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের ইঙ্গিত

ক্রিকেটভিত্তিক ভারতীয় ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তার পর আইসিসি নাকি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। উল্লেখ্য, ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে।

যদি সূচি পরিবর্তন করে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ভারতীয় ভেন্যুগুলোতে বিকল্প ম্যাচ না দেওয়া হয়, তাহলে আয়োজক হিসেবে বিসিসিআই বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে পারে।

কতটা আর্থিক ক্ষতি হতে পারে?

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল—

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে (ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার)

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে (ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৩ হাজার)

চার ম্যাচ মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার দর্শকের টিকিট বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম নির্ধারিত ছিল তুলনামূলক কম—প্রায় ১০০ থেকে ৩০০ রুপি।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টিকিট বিক্রির সরাসরি মালিকানা আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশনের হাতে থাকলেও, আয়োজক বোর্ড হিসেবে বিসিসিআইয়ের বড় আয়ের উৎস ছিল—

ম্যাচ ডে সারপ্লাস

স্থানীয় স্পনসরশিপ

ভিআইপি বক্স ও হসপিটালিটি ডিমান্ড

বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং একই ভেন্যুতে বিকল্প ম্যাচ না দেওয়া হয়, তাহলে বিসিসিআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে প্রায় ১০ কোটি থেকে ৪০ কোটি রুপি—দর্শক উপস্থিতি ও টিকিটের গড় দামের ওপর নির্ভর করে।

তবে বাংলাদেশের ম্যাচের পরিবর্তে অন্য ম্যাচ আয়োজন করা হলে এই ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।

ট্যাগ: বিসিবি আইসিসিকে চিঠি বাংলাদেশ ভারত বিশ্বকাপ ইস্যু বাংলাদেশ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতে খেলবে না মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএল বাদ বাংলাদেশ ভারতের ক্রিকেট সম্পর্ক বিশ্বকাপ ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তন বিসিসিআই আর্থিক ক্ষতি বাংলাদেশ ক্রিকেট নিরাপত্তা শঙ্কা আইপিএল বাংলাদেশে বন্ধ টি২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশ খবর মুস্তাফিজ ইস্যু সর্বশেষ খবর ভারত বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংকট ক্রিকেট ক্রিকেট বিশ্বকাপ ভেন্যু বিতর্ক Bangladesh vs India World Cup issue Mustafizur Rahman IPL controversy BCB ICC letter World Cup venue change Bangladesh not playing World Cup in India BCCI financial loss World Cup T20 World Cup Bangladesh news India Bangladesh cricket relations IPL ban in Bangladesh Mustafizur IPL latest update ICC T20 World Cup venue controversy Bangladesh cricket security concern BCCI World Cup revenue loss Bangladesh cricket political issue

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত