ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রবাসীদের বড় সুসংবাদ দিলো সৌদি আরব

২০২৫ ডিসেম্বর ২৩ ২৩:৪৩:৪৮

প্রবাসীদের বড় সুসংবাদ দিলো সৌদি আরব

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে দেশটির সরকার। দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর, লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর আরোপিত 'ইকামা' বা ওয়ার্ক পারমিট ফি মওকুফ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সৌদি মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে এই যুগান্তকারী প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়।

ভিশন ২০৩০ ও অর্থনৈতিক রূপান্তর:

সৌদি আরবের 'ভিশন ২০৩০' বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটির শিল্প ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী বান্দার আলখোরায়েফ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্প খাতে পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। সৌদি সরকার বর্তমানে তাদের তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে শিল্পায়ন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ফি মওকুফের ফলে স্থানীয় শিল্পগুলো বিশ্ববাজারে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

শিল্প খাতে বড় বিনিয়োগের হাতছানি:

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ইকামার ফি বাতিলের ফলে কারখানা মালিকরা অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন, যা তারা নতুন বিনিয়োগ, অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যয় করতে উৎসাহিত হবেন। এর ফলে সৌদি আরবের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো আরও আধুনিক ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠবে।

প্রবাসীদের জন্য কেন এটি বড় খবর?

দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীরা ইকামার চড়া ফি বা লেভি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে এই আর্থিক চাপ সরিয়ে নেওয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান যেমন সুরক্ষিত হবে, তেমনি তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। যদিও এই ছাড় নির্দিষ্টভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য, তবে এটি সামগ্রিক শ্রমবাজারে একটি ইতিবাচক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আঞ্চলিক শ্রমবাজারের চিত্র:

উল্লেখ্য যে, সৌদি আরব বর্তমানে বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক আমদানির হার বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপুল জনশক্তির চাহিদা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে সৌদি আরবে কর্মী যাওয়ার হার আগের তুলনায় প্রায় ২০-২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের নতুন এই শিল্পবান্ধব নীতি প্রবাসীদের জন্য সৌদি আরবে কাজ করার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে।

সৌদি আরবের এই নীতি পরিবর্তনের ফলে দেশটির শিল্প খাতের বিকাশ যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও পূরণ হবে। আধুনিক প্রযুক্তি আর দক্ষ জনশক্তির সমন্বয়ে সৌদি আরব এখন এক নতুন অর্থনৈতিক যুগের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত