ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

হঠাৎ পাল্টে গেল তেলের দাম

২০২৫ ডিসেম্বর ২০ ২৩:১৯:৪০

হঠাৎ পাল্টে গেল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রভাবে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

দামের সর্বশেষ চিত্র:

গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.১ শতাংশ বা ৬৫ সেন্ট বেড়ে ৬০.৪৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ৫১ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬.৬৬ ডলারে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে গত সপ্তাহের সামগ্রিক হিসাবে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে, যা আগের সপ্তাহের ৪ শতাংশ পতনের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব:

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ সত্ত্বেও শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সম্পদ সরাসরি বাজেয়াপ্ত না করে ঋণের মাধ্যমে ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরো দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমাদের এই পদক্ষেপকে ‘ডাকাতি’ বলে অভিহিত করেছেন। উত্তজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার একটি তেল ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ভেনেজুয়েলা ইস্যু ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা:

বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা জোরদারের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান আরও শক্ত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে শঙ্কা:

কেবল আন্তর্জাতিক সমস্যা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শেল তেলক্ষেত্র ‘পার্মিয়ান বেসিন’-এ সক্রিয় রিগের সংখ্যা কমে ২৪৬-এ দাঁড়িয়েছে, যা ২০২১ সালের আগস্টের পর সর্বনিম্ন। রিগ সংখ্যা কমে যাওয়া মানে ভবিষ্যতে তেল উৎপাদন হ্রাসের আগাম সংকেত, যা দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা। সরবরাহ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত