ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

অপ্রতিরোধ্য ভারত, ৪৩২ রানের ম্যাচ জয়

২০২৫ ডিসেম্বর ২০ ১০:৫০:৩৭

অপ্রতিরোধ্য ভারত, ৪৩২ রানের ম্যাচ জয়

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে বর্তমানে ভারতের জয়রথ থামানো যেন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ৪৩২ রানের এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩০ রানে পরাজিত করে সিরিজ পকেটে পুরল ভারত। ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি টানা আটটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়ল সূর্যকুমার যাদবের দল।

হার্দিক-তিলক ঝড়ে রানের পাহাড়টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক। শুভমান গিলের অনুপস্থিতিতে ইনিংসের সূচনা করতে নামেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে থাকা এই জুটি মাত্র ৫.৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৬৩ রান যোগ করেন। তবে আসল ধামাকা তখনো বাকি ছিল। হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মার ব্যাটিং তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং লাইনআপ।

হার্দিক মাত্র ১৬ বলে ঝোড়ো ফিফটি করে ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন। শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ৬৩ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে, তিলক ভার্মা ধৈর্য ও আগ্রাসনের দুর্দান্ত মিশ্রণে ৪২ বলে ৭৩ রানের এক মূল্যবান ইনিংস উপহার দেন। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ২৩১ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ পায় টিম ইন্ডিয়া।

ডি ককের লড়াই এবং বুমরাহর ‘ম্যাজিক স্পেল’

২৩২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজের শততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কুইন্টন ডি কক ছিলেন রুদ্রমূর্তিতে। প্রথম ১০ ওভারে ১১৮ রান তুলে প্রোটিয়ারা জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছিল। শিশিরের কারণে যখন ভারতীয় স্পিনাররা হিমশিম খাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

শুকনো বল হাতে পেয়েই ভয়ংকর হয়ে ওঠেন জসপ্রিত বুমরাহ। ১১তম ওভারে ৬৫ রান করা ডি কককে প্যাভিলিয়নের পথ দেখিয়ে ভারতকে ম্যাচে ফেরান তিনি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে পথ হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। মার্কো জানসেন শেষ দিকে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও বুমরাহর বিষাক্ত ইয়র্কার আর বুদ্ধিদীপ্ত স্লোয়ারের সামনে তা যথেষ্ট ছিল না। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলিং ফিগার অর্জন করেন বুমরাহ।

সাফল্যের শিখরে টিম ইন্ডিয়াদক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হয় ২০১ রানে। ৩০ রানের এই জয়ে ভারত তাদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে টানা ১৪টি সিরিজে উন্নীত করল। অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমার যাদব নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। দলের এই সাফল্য প্রমাণ করে, কেন ভারত বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মুকুটহীন সম্রাট।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ