ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাথিরানাকে নিয়ে সংশয়, প্রশংসায় ভাসছেন মোস্তাফিজ

২০২৫ ডিসেম্বর ১৭ ২০:৫১:৩৮

পাথিরানাকে নিয়ে সংশয়, প্রশংসায় ভাসছেন মোস্তাফিজ

আইপিএল মিনি নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। একদিকে শ্রীলঙ্কান পেসার মাতিশা পাথিরানাকে ১৮ কোটি রুপির মতো বিশাল অঙ্কে দলে ভিড়িয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি, অন্যদিকে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে তুলনামূলক কম দামে, ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছে তারা। এই দুই সিদ্ধান্তের তুলনা টেনে কেকেআরের নিলাম কৌশল নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া বিশ্লেষণে শ্রীকান্ত পাথিরানাকে নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, পাথিরানা একজন “হিট অ্যান্ড মিস” বোলার, যাঁর পারফরম্যান্স সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। শ্রীকান্ত বলেন, পাথিরানাকে নেওয়াটা বড় ঝুঁকি হলেও, মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত।

শ্রীকান্ত বলেন, “পাথিরানা বড় ঝুঁকি। সে কখনো ম্যাচ জিতিয়ে দেয়, আবার কখনো ব্যর্থ হয়। তবে কেকেআর যে মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছে, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত। ব্রাভোর উপস্থিতির কারণে পাথিরানা কেকেআরে যেতে পারে, সেটা অনুমান করা যাচ্ছিল। কিন্তু তার জন্য এত বড় দাম আর এতগুলো দলের আগ্রহ আমাকে অবাক করেছে।”

নিলামে পাথিরানাকে ঘিরে প্রতিযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। শুরুতে দিল্লি ক্যাপিটালস ও লখনৌ সুপার জায়ান্টস দর হাঁকাতে থাকে। পরে লড়াইয়ে যোগ দেয় কেকেআর। শেষ পর্যন্ত লখনৌকে ছাড়িয়ে গিয়ে ১৮ কোটি রুপিতে এই শ্রীলঙ্কান পেসারকে নিজেদের দলে টেনে নেয় কলকাতা।

ভিন্নধর্মী বোলিং অ্যাকশনের কারণে আইপিএলে পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন পাথিরানা। ২০২২ সালে আইপিএলে অভিষেক হলেও সেবার মাত্র দুই ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। তবে ২০২৩ মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ১৯ উইকেট নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০২৪ আসরে ছয় ম্যাচে ১৩ উইকেট নিলেও, ২০২৫ সালে তার পারফরম্যান্স ছিল তুলনামূলক ম্লান।

২০২৫ আইপিএলে ১২ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিলেও পাথিরানার ইকোনমি ছিল ওভারপ্রতি ১০.১৪, যা একজন ডেথ ওভারের বোলারের জন্য উদ্বেগজনক। এই পারফরম্যান্সের পরই চেন্নাই সুপার কিংস তাকে ছেড়ে দেয় এবং নিলামে ফেরানোর কোনো চেষ্টা করেনি।

এই প্রেক্ষাপটেই পাথিরানার জন্য এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শ্রীকান্ত। তিনি বলেন, “একটা মৌসুম খারাপ গেলেই অনেক বড় নাম আলোচনার বাইরে চলে যায়। জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক এক মৌসুম ভালো না করায় এখন কোথায়? ডেভন কনওয়ের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা।”

অন্যদিকে, মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেওয়াকে নিরাপদ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন সাবেক এই নির্বাচক। অভিজ্ঞতা, বৈচিত্র্যপূর্ণ কাটার এবং চাপের মুহূর্তে কার্যকর বোলিংয়ের কারণে ফিজ কেকেআরের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত