ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

চাহিদা কমে যাওয়ায় ধস নামছে পেঁয়াজ বাজারে

২০২৫ নভেম্বর ২৮ ১৭:০৮:১৬

চাহিদা কমে যাওয়ায় ধস নামছে পেঁয়াজ বাজারে

বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা কমে যাওয়ায় বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছেন ভারতের রপ্তানিকারকরা। বহু বছর ধরে বাংলাদেশই ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি কমতে থাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে নয়াদিল্লির পেঁয়াজ ব্যবসা। একই সঙ্গে সৌদি আরবও ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পাকিস্তান ও চীনের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে ভারতের পেঁয়াজ বাজারে নেমেছে মন্দার ছায়া—এমন তথ্য জানিয়েছে ইকোনমিক টাইমস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত সরকার গত কয়েক বছরে স্থানীয় বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বহুবার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারত অনুপস্থিত থাকায় আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজে নেয়। ফলাফল—যেসব দেশ আগে ভারতের ওপর নির্ভর করত, তারা এখন পাকিস্তান, চীন এমনকি নিজেদের উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে।

রপ্তানি খাত–সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেন, ভারতের পেঁয়াজের বীজ অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে। ফলে ভারতীয় বীজ ব্যবহার করে সেই দেশগুলো নিজস্ব উৎপাদনও বাড়িয়ে ফেলছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের আধিপত্য কমছে দ্রুত।

ভারতের একজন পেঁয়াজ রপ্তানিকারক অজিত শাহ জানান, “আগে আমাদের পেঁয়াজের গুণগত মান দেখে ক্রেতারা ভালো দাম দিত। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা বাজারে না থাকায় ক্রেতারা অন্য উৎসে চলে গেছে। এখন তারা কোয়ালিটির চেয়ে দামকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”

২০১৯ ও ২০২০ সালে ভারত দুই দফায় মোট ১১ মাস পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে রাখে। এতে আমদানিকারী দেশগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। বাংলাদেশ এ ঘটনায় ভারতকে কূটনৈতিক নোট পর্যন্ত পাঠায়। বর্তমানে নিজেদের কৃষক ও বাজার সুরক্ষায় বাংলাদেশ ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

২০২৩–২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭.২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করলেও ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ নিয়েছে—যা তুলনামূলকভাবে অতি সামান্য।

শুধু বাংলাদেশই নয়, সৌদি আরবও ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি প্রায় বন্ধ করেছে। তারা কমদামে পেঁয়াজ পাচ্ছে ইয়েমেন ও ইরান থেকে। অনুরূপভাবে ফিলিপাইনে চীনা পেঁয়াজের ঘাটতি না থাকলে ভারতীয় পেঁয়াজ নেয় না দেশটি।

ভারতের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল স্বীকার করেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের ক্রেতারা শুধু মুখ ফিরিয়েই নেয়নি, তারা এখন নিজেদের উৎপাদনেও স্বনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। এতে ভারতীয় কৃষক ও রপ্তানিকারকদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।”

এ অবস্থায় বড় ক্রেতা হারানোর কারণে ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে নীতিনির্ধারকদের।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত