ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লিভারপুলের ভয়াবহ পতন: আবারও ৭০ বছরের পুরোনো লজ্জার রেকর্ড

২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৭:৫২:৫৩

লিভারপুলের ভয়াবহ পতন: আবারও ৭০ বছরের পুরোনো লজ্জার রেকর্ড

লিভারপুলের দুরবস্থা থামছেই না। অ্যানফিল্ডে ইউরোপীয় ম্যাচে পিএসভি আইন্দহোভেনের কাছে ৪–১ গোলের বড় পরাজয়ে কোচ আর্নে স্লটের ওপর চাপ আরও বেড়ে গেল। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জেতা দলটি প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে নতুন মৌসুমে আরও শক্তিশালী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—টানা ১২ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে হার, যা ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৭০ বছরের সবচেয়ে বাজে রেকর্ড আবারও

পিএসভির কাছে এই পরাজয়ে লিভারপুল ১৯৫৩ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথমবার টানা তিন ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে হারল। ১৯৫৩–৫৪ মৌসুমের সেই ভয়াবহ পতনের স্মৃতি ফের জেগে উঠেছে—যে মৌসুমে দলটি অবনমিত হয়েছিল।এ ছাড়া ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের সবচেয়ে বড় হারের রেকর্ডের সঙ্গেও এটি মিলছে।

ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় হতাশার ছাপ ছিল স্পষ্ট। পিএসভির তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের পর লিভারপুলের ফুটবলারদের মনোবল ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। দর্শকরাও শেষ বাঁশির আগেই গ্যালারি ছেড়ে বের হয়ে যান। কয়েক মাস আগেই প্রথম মৌসুমে লিগ জয়ী কোচ স্লটের প্রতি এখন সমর্থকদের বিশ্বাস নড়ে গেছে বলে পরিষ্কার হয়েছে।

শুরুতেই ভুলের খেসারত

ম্যাচের শুরুতে চাপ এড়ানো জরুরি ছিল, কিন্তু ঠিক তখনই বড় ভুল করেন অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক। পিএসভির কর্নার থেকে বল হাত ছুঁয়ে ফেলায় স্প্যানিশ রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। অসুস্থ অ্যালিসনের জায়গায় গোলবারে থাকা জর্জি মামারদাশভিলিকে ভুল দিকে পাঠিয়ে ইভান পেরিসিচ পেনাল্টি থেকে গোল করেন।এতে করে লিভারপুল শেষ ১২ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই প্রথমে গোল হজম করার লজ্জাজনক রেকর্ড স্পর্শ করল।

ম্যাচ শুরুর মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে গোল খাওয়ার পরও দ্রুত সমতায় ফেরে লিভারপুল। ১৬তম মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টার ও গাকপোর সমন্বয় থেকে ডমিনিক সোবোসলাই গোল করেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভ্যান ডাইকের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে এসে দলটিকে এগিয়ে নেওয়া থেকে বঞ্চিত করে।

বিরতির পর ভেঙে পড়া ডিফেন্স

দ্বিতীয়ার্ধে পিএসভি নিজেদের গুছিয়ে নেয়, আর লিভারপুলের ডিফেন্স একের পর এক ভুল করতে থাকে। মাউরো জুনিয়র সহজেই সালাহকে কাটিয়ে ভ্যান ডাইক ও কোনাতের মাঝামাঝি দারুণ পাস দেন, যেটি ধরে গুস টিল স্কোর ২–১ করেন।

হুগো ইকিটিকে ইনজুরিতে বের হয়ে যাওয়ার পর স্লট আরও সমস্যায় পড়েন। এরপর আসে সবচেয়ে বড় ভুল—সহজ একটি ক্লিয়ারেন্স মিস করেন সেন্টার–হাফ ইব্রাহিমা কোনাতে। বল পেয়ে রিকার্ডো পেপি শট নেন, পোস্টে লেগে ফিরে আসা বল থেকে কুহাইব দ্রিউশ গোল করে ব্যবধান ৩–১ করেন।

ইনজুরি সময়ে পিএসভির দুরন্ত পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্রিউশ আরও একটি গোল করেন। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪–১—লিভারপুলের জন্য তিক্ত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ফুটবল এর অন্যান্য সংবাদ