ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

এইমাত্র পাওয়া : সৌদির ভিসা নিয়ে দারুন সুখবর

২০২৫ নভেম্বর ০৩ ০২:২০:৪৭

এইমাত্র পাওয়া : সৌদির ভিসা নিয়ে দারুন সুখবর

দক্ষিণ এশিয়ার বহু মানুষ বর্তমানে সৌদি আরবের দিকে তাকিয়ে আছে নতুন জীবনের আশায়। উন্নত জীবনযাত্রা, ভালো বেতন এবং আধুনিক কর্মপরিবেশের কারণে সৌদি আরব প্রবাসী শ্রমবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। দেশটি ভিশন ২০৩০-এর মাধ্যমে তাদের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করছে। পেট্রোলিয়াম নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে সৌদি আরব বিনিয়োগ করছে নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে, যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। এই সুযোগের চাবিকাঠি হলো কোম্পানি ভিসা।

কোম্পানি ভিসা হলো একটি ধরনের কর্মভিসা, যার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীরা নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির অধীনে কাজ করতে পারেন। ভিসার বৈধতা, সুযোগ-সুবিধা এবং নবায়ন সবকিছু কোম্পানির দায়িত্বে সম্পন্ন হয়। প্রধান ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ক ভিসা সাধারণ শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য, প্রফেশনাল ভিসা যেমন ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার বা আইটি বিশেষজ্ঞদের জন্য, বিজনেস ভিসা ব্যবসায়িক সফর বা বিনিয়োগের জন্য এবং ফ্যামিলি ভিসা, যা সৌদিতে কর্মরত ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের স্পনসর করতে ব্যবহার করেন।

ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া প্রথমে জটিল মনে হলেও সঠিক তথ্য থাকলে এটি সহজ হয়ে যায়। প্রথমে অনুমোদিত জব পোর্টাল বা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কোম্পানি নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচিত কোম্পানি থেকে লিখিত অফার লেটার সংগ্রহ করতে হবে, যেখানে বেতন, কাজের সময় এবং সুবিধাসমূহ উল্লেখ থাকবে। সাধারণত ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ভিসা অনুমোদন পাওয়া যায়।

সৌদি আরবে বেতন কাজের ধরন, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। সাধারণ শ্রমিকের মাসিক বেতন ৪৫,০০০-৭৫,০০০ টাকা, দক্ষ শ্রমিক ৫৪,০০০-৯০,০০০, সুপারভাইজার ৭৫,০০০-১২০,০০০, টেকনিশিয়ান ৬৬,০০০-১০৫,০০০, ড্রাইভার ৬০,০০০-৯৬,০০০, ইঞ্জিনিয়ার ১২০,০০০-২১০,০০০ এবং ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞ ১৫০,০০০-৩০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। স্বাস্থ্যকর্মী, ম্যানেজার বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ১০৫,০০০-৩৬০,০০০ টাকার মধ্যে বেতন পান।

বেশিরভাগ কোম্পানি কর্মীদের জন্য বিনামূল্যে আবাসন, খাবার, পরিবহন ও চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করে। এছাড়া বছরে নির্দিষ্ট ছুটি এবং রিটার্ন টিকিটও দেওয়া হয়। জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হলেও কোম্পানি প্রদত্ত সুবিধাগুলো থাকলে এটি অনেকটা কমে যায়।

ভিশন ২০৩০ এর আওতায় সৌদি আরবের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন শিল্প, স্মার্ট সিটি এবং মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে, ফলে বিশেষত দক্ষ ও প্রফেশনাল কর্মীদের বেতনও ধীরে ধীরে বাড়ছে। কোম্পানি ভিসার মেয়াদ শেষ হলে, নিয়োগদাতা কোম্পানির মাধ্যমে সহজে নবায়ন করা যায়।

চাকরি পাওয়ার জন্য প্রথমে কোনো সৌদি কোম্পানির কাছ থেকে চাকরি অফার লেটার নিতে হবে। এরপর বাংলাদেশ থেকে দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভিসা স্ট্যাম্প করাতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে বৈধ পাসপোর্ট (৬ মাস মেয়াদসহ), ভিসা অথরাইজেশন নম্বর, চাকরির অফার লেটার/কনট্রাক্ট, মেডিকেল রিপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র, ছবি এবং বাংলাদেশিদের জন্য ইগঊঞ রেজিস্ট্রেশন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত