ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লজ্জাজনক হারের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে বেরিয়ে এলো গোঁপণ তথ্য

২০২৫ নভেম্বর ০১ ১৩:৩০:২৩

লজ্জাজনক হারের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে বেরিয়ে এলো গোঁপণ তথ্য

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে পরাজয় এবং নেপালের কাছেও হেরে যাওয়া একটি দলের বিপক্ষে সিরিজ হার বাংলাদেশের ক্রিকেটে চরম হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই ব্যর্থতার মূলে রয়েছে বিতর্কিত কোচিং সিদ্ধান্ত এবং বোর্ডের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব, এমনটাই অভিযোগ করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। অবাক করার মতো বিষয় হলো, যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল কিছুদিন আগে নেপালের কাছে হেরেছে, সেই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ টানা তিন ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। একটি ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিম ৮৯ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন,

যা ছিল বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে শতক হাঁকানোর সুবর্ণ সুযোগ। তামিম ইকবাল ও পারভেজ হোসেন ইমন ছাড়া বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার টি-টোয়েন্টিতে শতক করতে পারেননি। তানজিদের আউট হওয়ার পর দর্শকদের মধ্যে হতাশা বাড়ে। এমনকি, বাকি ৯ জন ব্যাটসম্যান মিলে সম্মিলিতভাবে মাত্র ৩৪ রান সংগ্রহ করেন, যা দলের ব্যাটিং গভীরতার অভাব ও দুর্বলতা প্রকট করে তোলে।

দলের ব্যাটিং কোচের (যিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত) ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা সত্ত্বেও কোচ তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন এবং একটি 'সিন্ডিকেট' বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ। জাকের আলী অনিকের মতো একজন খেলোয়াড়কে একাদশে রাখা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে, যার পূর্বের পরিসংখ্যান ভালো ছিল না। তাকে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়, অথচ একজন স্লগার হিসেবে তার শেষের দিকের ওভারগুলোতে খেলার কথা ছিল।

নাসুম আহমেদকে তার আগে ব্যাটিংয়ে নামানোর সিদ্ধান্তটিকে ক্যারিবিয়ান বোলারদের তীব্র আক্রমণের মুখোমুখি হওয়া থেকে জাকেরকে রক্ষা করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাকেরের এলবিডব্লিউ আউট হওয়া এবং একটি রিভিউ নষ্ট করাও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

বোলিং কৌশল এবং খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমান কোনো ইনজুরির খবর ছাড়াই একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন, যা তার ফিটনেস থাকা সত্ত্বেও বাদ পড়ার ইঙ্গিত দেয়। যে উইকেটে তিনজন স্পিনার (সাক মাহেদী, রিশাদ, নাসুম) খেলানো হচ্ছে, সেখানে পেসারদের কম্বিনেশন না রাখা এবং মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া দলের কৌশল নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। এতে তাসকিন আহমেদের উপর কাজের চাপ বাড়ে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল সিন্ডিকেট ভাঙার আভাস দিলেও, মাঠের ক্রিকেটের এই লজ্জাজনক ও বিতর্কিত ফলাফলের দায়ভার শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট অপারেশন্সের ওপরই বর্তায়। অভিযোগ উঠেছে যে, এই সিন্ডিকেট একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোচের দ্বারা পরিচালিত, যিনি জাতীয় দলকে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল হিসেবে পরিচালনা করছেন।

বিপিএলের সফল দল কুমিল্লার ভিক্টোরিয়ান্সের উদাহরণ টেনে বলা হয়, সেখানে ক্রিকেটারদের পছন্দের স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু জাতীয় দলে এমন সুযোগ নেই। গুঞ্জন রয়েছে যে, আশরাফুলের ব্যাটিং কোচ হওয়ার আলোচনা শুরু হলে একজন বিদেশী কোচের সাথে আলোচনা করে সিন্ডিকেট সদস্যরা এটিকে ভেস্তে দেয়। এই সিন্ডিকেটের কারণে আশরাফুলকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, কারণ তিনি নাকি ওই সিন্ডিকেটের অংশ নন।

বাংলাদেশ ওয়ানডেতে ১০০ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৯০-এর আশেপাশে অলআউট হয়ে যাচ্ছে, অথচ এই ব্যাটিং কোচ এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। তার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তোলার বা তাকে জবাবদিহি করার ক্ষেত্রে এক ধরনের অস্বচ্ছতা রয়েছে। ক্রিকেটকে এভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলার মতো করে পরিচালনা করা এবং সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও এর প্রেসিডেন্টের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত