ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাপনের অতীত আমল, স্বজনপ্রীতি বন্ধ হলো বিসিবিতে

২০২৫ অক্টোবর ৩০ ১৮:০৮:১১

পাপনের অতীত আমল, স্বজনপ্রীতি বন্ধ হলো বিসিবিতে

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অবশেষে নতুন মানবসম্পদ (এইচআর) নীতিমালা কার্যকর করেছে। এর লক্ষ্য হলো বোর্ডকে পারিবারিক ব্যবসার ছাপ থেকে মুক্ত করে একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে, আর স্বজনপ্রীতি ও অদক্ষতার সংস্কৃতি দূর করা হবে।

গত ১৫ বছর ধরে পুরোনো এইচআর নীতিমালার কারণে বোর্ডে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ব্যক্তিগত পরিচিতি ও প্রভাবের প্রাধান্য ছিল। সভাপতি বা পরিচালকদের পরিচিতরা সহজেই পদে নিয়োগ বা পদোন্নতি পেতেন, যা বিসিবির পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও অভিযোগও উঠেছে।

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে বিসিবি এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ ও পেশাদার কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি পরামর্শক সংস্থা এই কাঠামো তৈরিতে অংশ নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাঠকর্মী থেকে কোচ ও বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের সকল নিয়োগ ও পদোন্নতি হবে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। প্রতিটি পদে কাজের নীতি (এথিক্স), কাজের মূল পারফরম্যান্স সূচক (কেপিআই) এবং বার্ষিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন (অ্যাপরাইজাল) কার্যকর করা হবে।

বিসিবির সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, “আমরা ট্রিপল সেঞ্চুরি প্রজেক্টের চতুর্থ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিসিবিকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নতুন অর্গানোগ্রামে বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান নিযুক্ত করা হচ্ছে এবং সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কাজের নীতি ও মূল্যায়ন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করা হয়েছে। এতদিন ধরে কোনো এইচআর পলিসি ছিল না, এখন আমরা তা কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছি।”

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটবে এবং শুধুমাত্র পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই নিয়োগ ও পদোন্নতি হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে দেশের ক্রিকেটের সার্বিক মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ