ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা

২০২৫ অক্টোবর ২৭ ১১:৩০:০৭

ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সর্বশেষ জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১০৭টি দেশের নাগরিকদের এখন থেকে দেশটিতে প্রবেশের আগে বাধ্যতামূলকভাবে অগ্রিম ভিসা নিতে হবে।

এই নতুন নিয়মটি ইউএই সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ও ভিসা প্রক্রিয়া আরও নিয়ন্ত্রিত করার অংশ হিসেবে কার্যকর করা হয়েছে।

পরিবর্তনের লক্ষ্য ও অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহ

ইউএই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের অনিয়ম, ভিসা জালিয়াতি ও অবৈধ অবস্থান রোধে এই নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে — বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমারসহ ১০৭টি দেশ।

অধিকাংশ দেশ থেকে আগত ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে অন-অ্যারাইভাল ভিসা (Visa on Arrival) আর কার্যকর থাকবে না।

কর্মসংস্থান ও পর্যটন ভিসায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

ইউএই সরকার নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান ও ট্যুরিস্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।

এই দেশগুলো হলো — নাইজেরিয়া, ঘানা, সিয়েরা লিওন, সুদান, ক্যামেরুন, লাইবেরিয়া, বেনিন, কঙ্গো ও বুরুন্ডি।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইউএই কর্তৃপক্ষ।

ভ্রমণকারীদের করণীয়

বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ইউএই ভ্রমণের আগে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা জরুরি—

অগ্রিম ভিসা আবেদন: অনুমোদিত ভিসা সেন্টার বা ইউএই দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।

পাসপোর্টের মেয়াদ: অন্তত ৬ মাস বৈধ পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

প্রতারণা থেকে সতর্কতা: দ্রুত ভিসা পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া এজেন্টদের থেকে দূরে থাকতে হবে।

অফিশিয়াল আপডেট অনুসরণ: ইউএই ইমিগ্রেশন বা সরকারি ওয়েবসাইটের নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত।

ইউএই সরকার জানিয়েছে, যারা নিয়ম ভঙ্গ করে প্রবেশের চেষ্টা করবেন বা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞ মত

ভিসা নীতির এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়া থেকে আগত প্রবাসীদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তবে ইউএই প্রশাসনের লক্ষ্য হলো বৈধ ভ্রমণ ও কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত