ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিরাট সুখবর : বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে নতুন চুক্তি

২০২৫ অক্টোবর ১৯ ২০:২০:৩৮

বিরাট সুখবর : বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে নতুন চুক্তি

বাংলাদেশ ও কুয়েতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। শ্রম সহযোগিতা, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তাসহ একাধিক খাতে শিগগিরই নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে—এমনটাই জানিয়েছেন কুয়েতের এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত সামি ঈসা জোহর হায়াত।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই দেশের প্রথম পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের রাজনৈতিক পরামর্শ বৈঠক (F.O.C) অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কুয়েতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সামি ঈসা জোহর হায়াত, আর বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম।

আলোচনা ও সহযোগিতার খাত

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান—এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন,

“আমরা এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছি। খুব শিগগিরই একাধিক নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।”

এছাড়া বৈঠকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে কুয়েত এয়ারওয়েজ সপ্তাহে ৭টি, আলজাজিরা এয়ারওয়েজ ১৪টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। উভয় দেশই নতুন রুট চালু ও ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্বীকৃতি

রাষ্ট্রদূত সামি ঈসা বলেন,

“বাংলাদেশ ও কুয়েতের সম্পর্ক একদিনের নয়, এটি ৩৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ফল। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের কুয়েত দখলদারত্বের সময় বাংলাদেশের সেনাদের ভূমিকা আমরা কখনও ভুলব না।”

তিনি আরও জানান, সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন এবং কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ আলির একটি চিঠি পররাষ্ট্র উপদেষ্টার হাতে তুলে দিয়েছেন, যেখানে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধন আরও দৃঢ় হলো—এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত